
বাসাইলসংবাদ: রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : নতুন বছরে শুরুতেই ২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপতৎপরতা রুখে দিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। যার ফলে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় কোন প্রকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকারের এই প্রচেষ্টা ধরে রাখতে পারলেই অশিক্ষার হাত থেকে মুক্তি পাবে জাতি। কেননা, ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী নামমাত্র পাস করলেও তা মূলত অশিক্ষারই নামান্তর।
বর্তমান সরকার তার প্রতিটি মেয়াদেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ব্যাধি থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে কঠোর অবস্থান নেয়। যেহেতু প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ব্যাধি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছিলো, ফলে তা থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে কিছুটা সময় লেগেছে। দীর্ঘ সময় পরে তা সফলতার মুখ দেখছে।
প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত অপতৎপরতায় সরকার কঠোর হয় ২০১৮ সালের শুরুতে। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুজব ও তৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থান নেয় বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ছাড়াই সফলভাবে শেষ হয় গত বছরের পাবলিক পরীক্ষাগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষাকে প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার। প্রশ্ন ফাঁসকারীদের গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে সারাদেশ থেকে দেড় শতাধিক প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্যদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই প্রশ্নপত্র ফাঁস নামক সামাজিক ব্যাধি শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। রক্ষা পেয়েছে আমাদের শিক্ষাখাত। তবে সমাজ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকলের মতো সামাজিক ব্যাধিসমূহ পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেগুলো অব্যাহত রাখলে আর কেউ এমন অপতৎপরতায় জড়াতে সাহস পাবে না। সরকারের আন্তরিকতায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে অশিক্ষার হাত থেকে অচিরেই মুক্তি পাবে জাতি।
প্রসঙ্গত, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো তৎপরতা রোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নপত্র ডিজাইন, প্রশ্নপত্র বিতরণে ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহারসহ শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে গ্রেফতার হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যরা।
সূত্র- বাংলা নিউজ ব্যাংক
বাসাইলসংবাদ/একেবি




