
বাসাইলসংবাদ: শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা নতুন কিছু নয়। বহুবছর আগে থেকেই দেশীয় চলচ্চিত্রে অশ্লীলকর্মকাণ্ড হয়ে আসছে। বিশেষ করে একটা সময় দেশীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক হারে অশ্লীলতা ছেয়েগিয়েছিল। ১৯৫৪ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ দিয়ে ছবি নির্মাণ শুরু হয় বাংলাদেশে৷ ১৯৫৬ সালেএটি মুক্তি পায়৷ ১৯৫৬ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত আমাদের চলচ্চিত্র হিন্দি ও উর্দু ছবির সঙ্গে পাল্লাদিয়ে চলতো৷ তখন এহতেশাম, জহির রায়হান, ফতেহ লোহানী, শুভাষ দত্তরা সিনেমানির্মাণ করতেন৷ হিন্দি ও উর্দু সিনেমার সাথে প্রতিযোগিতার কারণে তারা ছবির মানেরদিকে খেয়াল রাখতেন। তাদের ছবি দর্শক গ্রহণও করেছিল। হিন্দি/উর্দু ছবির সাথে ফাইটকরেও অনেক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছিলেন তখনকার পরিচালকেরা। স্বাধীনতারপর তখনকার শিল্পীদের দাবির মুখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হিন্দি ওউর্দু ছবির আমদানি বন্ধ করে দেন৷ এরপর ৭০-এর দশক জুড়ে মৌলিক ছবির বাজার ছিলগর্ব করার মতো৷
১৯৯৭ সালের দিকে দেশীয় চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা প্রভাব বিস্তার করে৷ চলচ্চিত্রে অশ্লীলতারহার এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) প্রায়পুরোটাই ধ্বসের মুখে পড়ে। সেই সময়কার বিএনপি জামায়াত সরকার চলচ্চিত্রেরউন্নয়নের জন্য কোনো ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি বললেই চলে। ধরা যায়, এফডিসিকে পুরোটাইছেড়ে দিয়েছিলো নিজ হস্তে চলার জন্য। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্রের অশ্লীলতার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়৷ বলা হয়েথাকে সেই সময়টা হলো বাংলা চলচ্চিত্রের অন্ধকার যুগ। তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারেরকঠোর অভিযান এর পর অশ্লীলতা দূর হলেও সিনেমার সুদিন ফেরেনি। নকল ও মানহীনগল্পের সিনেমা নির্মাণ হয়েছে একের পর এক। ইন্টারনেটের কল্যাণে সিনেমার গল্প নকলকরার জন্য তখন আর ভারতে যাওয়া লাগতো না। ঘরে বসেই ল্যাপটপে হুবহু সিন টু সিনকপি করে তৈরি শুরু হলো স্ক্রিপ্ট। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না।
এরপর ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরদমিয়ে দেয়া হয় বাংলা চলচ্চিত্রের অশ্লীলতা। এরপর এখন পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অশ্লীল কর্মকাণ্ডহয়না বললেই চলে। তবে মাঝে আবারো অশ্লীল কর্মকাণ্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টাকরলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের হস্তক্ষেপে আর সফলতা পায়নি চলচ্চিত্রের পরিচালকরা।এদিকে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকারক্ষমতায় আসার পর দেশে যাবতীয় অশ্লীল কর্মকাণ্ড রোধে আরও বেশি কঠোর হতে শুরুকরে। অশ্লীল কর্মকাণ্ড রোধে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সরকারের ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেবিটিআরসি। ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার অশ্লীল কর্মকাণ্ডে সম্বলিত সাইট।আর সরকারের এই কঠোর তদারকির কারণে খুব দ্রুতই বাংলা চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার হারকমে যাবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র- বাংলার আলো
বাসাইলসংবাদ/একেবি




