
বাসাইলসংবাদ: শনিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক:
বহুকাল ধরে চলে আসা পারিবারিক ব্যবসার সফল প্রসারের ধারাবাহিকতা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেওহচ্ছে। তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর প্রবৃদ্ধির বৈশ্বিক গড় ছিল ৩৪ শতাংশ,যেখানে বাংলাদেশের ছিল ৫৩ শতাংশ। তবে, এবার বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিকগড়ের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বজুড়েই পারিবারিক ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জ বেশি। বাংলাদেশে এই চ্যালেঞ্জের পরিমাণ আরও বেশি।দেশের পারিবারিক ব্যবসায় পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, এগুলো হচ্ছে – দক্ষতার প্রশ্ন, উদ্ভাবনসক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা, জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা। বিশ্বখ্যাতপরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স (পিডব্লিউসি)-এর ‘বৈশ্বিক পারিবারিক ব্যবসায় জরিপ২০১৮’ প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জগুলো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের চেয়েওবেশি। দক্ষতার প্রশ্নে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যেখানে ৬০ শতাংশ, বাংলাদেশে তা ৬৬ শতাংশ। তবে উদ্ভাবনীসক্ষমতায় বৈশ্বিকের ৬৬ শতাংশের চেয়ে বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ একটু কম (৬৩ শতাংশ)। এছাড়াঅভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ৪৯ শতাংশের চেয়ে বাংলাদেশে ১৪ শতাংশ বেশি। সবচেয়েখারাপ অবস্থা জ্বালানি ও কাঁচামালের দামে। আবার, তথ্য ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যেখানে ৩৯শতাংশ, বাংলাদেশে তা ৫৩ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে পারিবারিক ব্যবসায়ের পুঁজির উৎস বহুমাত্রিক হলেও ব্যাংক ঋণই হচ্ছেপ্রধান উৎস। শেয়ারবাজার এবং ভেনচার ক্যাপিটাল-ও পুঁজির উৎস হিসেবে রয়েছে, তবে সেগুলোব্যাংকের চেয়ে অনেক কম। দেশের পারিবারিক ব্যবসায়ে ব্যাংক ঋণ ৯৪ শতাংশ, এ ব্যাপারে বৈশ্বিকহার ৮১ শতাংশ। আবার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসা করে ৬৩ শতাংশ, বৈশ্বিকগড় যেখানে ৭১ শতাংশ। আর বাংলাদেশে ৭৫ শতাংশ পারিবারিক ব্যবসায়ে পরিবারের বাইরের দক্ষলোকদের নিয়োগ দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা কম।বৈশ্বিক হার ৪৯ শতাংশের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র ৩৪ শতাংশ পারিবারিক ব্যবসায়ীর দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদীপরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন কারণে ব্যবসায় তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীর দরকার পড়ে। এদিক থেকেবাংলাদেশের হার ৯ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক হার ২৪ শতাংশ। ৬৩ শতাংশ ব্যবসায়ীর দাবি পারিবারিকব্যবসায়ের বিরোধ নিষ্পত্তি করে তারা নিজেরাই মিটিয়ে ফেলেন। আর ৬ শতাংশ দাবি হচ্ছে, বিরোধনিষ্পত্তিতে তাঁরা অন্যদের হস্তক্ষেপ নেন।
বিশ্বজুড়েই উত্তরাধিকার-এর বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেশ ভালোভাবেইপ্রযোজ্য। পরবর্তী প্রজন্মই ব্যবসায়ের উত্তরাধিকার হবে, বৈশ্বিক হার এ ব্যাপারে ৩৭ শতাংশ এবংবাংলাদেশে এ হার ৯১ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবসায়ের পর্ষদের ২৫শতাংশ নারী রয়েছেন। অথচ, বিশ্বে এর হার আরও কম, (২১ শতাংশ)। দেশে মাত্র ১৪ শতাংশ নারীরয়েছেন পারিবারিক ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনায়, যার হার বিশ্বে ২৪ শতাংশ। তবে ব্যবসার উন্নয়নের জন্যব্যক্তি নির্ভরশীলতা কমিয়ে এদেশের পারিবারিক ব্যবসা পদ্ধতি আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজনবলে মনে করেন পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র- নিউজ বাংলার আলো
বাসাইলসংবাদ/একেবি




