
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় ১৩ বছর পর আজ মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বাইরে সমাঝোতা হলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মাঝে ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ পদে থাকা নেতারা।

সম্মেলন উপলক্ষে সোমবার (৩১ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, শহরের পশ্চিম আকুরটাকুরপাড়া ঈদগাহ মাঠে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা শেষে দুপুরের পর কাউন্সিলদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৯ সালের শেষের দিকে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর তিন দফা দলটির জেলা কমিটির গঠন হয়েছে সম্মেলন ছাড়া। কেন্দ্র থেকে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট আহমেদ আযম খানকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটি সকল উপজেলা ও পৌর কমিটির সম্মেলন শেষ করেছে। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর জেলা বিএনপিতে দুটি ধারার সৃষ্টি হয়। একটি ধারার নেতৃত্বে রয়েছেন জেলার আহ্বায়ক আহমেদ আযম খান। অপর ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বেশির ভাগ উপজেলা ও পৌরসভায় এবার আহমেদ আযম খানের অনুসারিরা নেতৃত্বে এসেছে। এবার সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে আহমেদ আযম খানের অনুসারিদের পক্ষ থেকে সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অপর যুগ্ম-আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল প্রার্থী হয়েছেন। অপরদিকে আহমেদ আযম খান বিরোধীদের অংশ থেকে সভাপতি পদে দুই জন প্রতিদ্বন্দি¦তা করছেন। এরা হচ্ছেন, দলের জেলা শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক সাদু এবং জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী ইমাম তপন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দি¦তা করছেন জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।
এদিকে, গত বছরের ৪ নভেম্বর আহমেদ আযম খানকে আহ্বায়ক ও মাহমুদুল হককে সদস্য সচিব করে জেলা বিএনপির ৪৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে দুটি ধারা তৈরি হয়। গত ৩ আগস্ট পুরোনো আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ওই কমিটিতে আহমেদ আযম খানকে পুনরায় আহ্বায়ক করা হয়। কিন্তু সদস্য সচিবসহ কয়েকজন জ্যৈষ্ঠ নেতা বাদ পড়েন। এ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। আহমেদ আযম খান বিরোধীরা সাবেক সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ছাইদুল হক ও সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এ বিরোধের অংশ হিসেবে ১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের তফসলি বেআইনী ও অকার্যকর ঘোষণার আদেশ চেয়ে আদালতে গত ২৬ অক্টোবর মামলা করেছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে পরদিন তিনি মামলাটি প্রত্যাহার করেন।
সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কাউন্সিলদের সাথে মতবিনিময় করে ভালো সাড়া পাচ্ছি। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ফরহাদ ইকবালের অবস্থানও ভালো রয়েছে।
সভাপতি প্রার্থী ছাইদুল হক সাদু জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপির রাজনীতি করছি। ১/১১ পরবর্তী দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছি। আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় নেতাকর্মীদের সাথে ছিলাম, এখনও আছি। তাই কাউন্সিলরা মূল্যায়ন করবে বলে আশা করছি।
কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, নির্বাচনের দুই হাজার ৩২৩ জন কাউন্সিলর ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বাসাইলসংবাদ, ০১ নভেম্বর ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




