
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলে বর্ষার পানি ওঠায় সুন্দরী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে বরাদ্দ করা টাকা থেকে এক কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের হাবলা উত্তরপাড়া থেকে আরোহা জীবনেশ্বর ভায়া ছয়শত গ্রামের বিল পর্যন্ত সুন্দরী খাল ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য এক কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৮৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে এ উপজেলার সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা বেগম চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল পুনঃখনন কাজটির উদ্বোধন করেন। কাজটি চলমান অবস্থায় তিনি এ উপজেলা থেকে চলে যাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ইকবাল হোসেন। তিনিও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বর্ষার পানি ওঠায় কাজটি ২৫ মে বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে এ পর্যন্ত ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার কাজ বাকি রয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ভেকু বাবদ খরচ হয়েছে ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ৯ টাকা, প্রশাসনিক ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৮শ’ টাকা, শ্রমিক বাবদ ৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ও সর্দার বাবদ খরচ হয়েছে ৬শ’ টাকা। পরে অবশিষ্ট এক কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে খাল পুনঃখনন ও কাজ শেষে অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় স্থানীয়রা ইউএনও’র প্রশংসা করেন।
পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান, হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।
হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘স্বচ্ছতার ভিত্তিতে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। প্রায় ৪০ দিন কাজ করার পর বর্ষার পানি চলে আসে। এ কারণে পুরো খাল পুনঃখননের আগেই কাজটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। খননকাজটি সম্পন্ন হলে কয়েকটি এলাকার কৃষকদের ব্যাপক উপকারে আসতো। তারপরও যে পর্যন্ত খনন হয়েছে এতেও অনেক কৃষক উপকৃত হবেন। এখন কৃষকরা তাদের জমিতে তিন ফসল আবাদ করতে পারবেন। আগে বর্ষার শুরুতেই এ অঞ্চলে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এখন কৃষকরা সঠিক সময়ে ফসল আবাদ করতে পারবেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণে খালের দুই ধারে প্রায় ৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খালটির পুরো কাজ শেষ করার আগেই বর্ষার পানি চলে এসেছিল। এর ফলে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ পর্যন্ত ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। এই কাজ করতে আমাদের ২৯ লাখ ৭০ হাজার ৪০৯টাকা খরচ হয়েছে। বাকি এক কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, খালটি পুনরায় পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ আসবে। এ ছাড়াও উপজেলার আরও বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।’
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্পটির কাজ করেছি। আশা করছি, এই খাল পুনঃখননের সুফল স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন ভোগ করতে পারবেন।’

এদিকে, সুন্দরী খালটি পুনঃখননের বাকি কাজ পুনরায় দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, এই সুন্দরী খালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উপস্থিত হয়ে প্রথম খনন কাজটির উদ্বোধন করেছিলেন।
বাসাইলসংবাদ, ২৮ জুলাই, ২০২৬ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




