
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার হাসিনাকে হটানোর জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। এই সরকার লুটেরা সরকার, এই সরকার একটি ডাকাত সরকার, এই সরকার দুর্ভিক্ষের সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে চুরি থাকবে, ডাকাতি থাকবে, দুর্ভিক্ষ থাকবে না এটা তো হয় না। এই দেশের জনগণ দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার আগেই হাসিনা সরকারের পতন ঘটাবে।’ মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। জনগণের মূল্যায়ন আজকে নেই। ভোট তো আজকে দেশে নাই। ১৫ বছর আগে যারা ভোটার হয়েছেন, তারা বলছেন নিজের ভোট তো দিতে পারলাম না। আপনারা দেখেছেন কিছুদিন আগে গাইবান্ধা উপ-নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে আজকের তথা কথিত সিইসি নিশি রাতের ভোটের ভোট চোর, ভোট চোরের সরকারের প্রতিনিধি। আমরা বিশ্বাস করি আগামীতে এই ধরণের নির্বাচন আর হবে না। ইনশাআল্লাহ আমরাও হতে দেবো না। নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাবো। এছাড়া আমাদের আর কোনও বিকল্প পথ নেই।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দল প্রতিষ্ঠার পর তাকে শাহাদৎ বরণ করতে হয়েছে। অনেকেই ভেবেছিলেন তাকে হত্যা করলেই বিএনপি শেষ। পরবর্তীতে নেতৃত্বে আসলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি দলকে লালন করে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করেছেন। আজকে তারেক রহমান দলকে পুরোপুরি পরিচর্যা করে একটি পুর্ণাঙ্গ দলে রুপান্তরিত করলেন। এই দলকে বার বার বিভক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো।’
শহরের পশ্চিম আকুরটাকুরপাড়া ঈদ গাঁ মাঠে আয়োজিত সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো, শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম, ওবায়দুল হক নাছির, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।
সম্মেলন সভাপতি প্রার্থী দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাইদুল হক, সাবেক সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন ও বর্তমান যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু ও বর্তমান যুগ্ম-আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল কাউন্সিলরদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১৩ বছর পর জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সম্মেলনে দুই হাজার ৩২৩ জন কাউন্সিলরের ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে।
বাসাইলসংবাদ, ০১ নভেম্বর ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




