
বাসাইলসংবাদ: রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : ৮০-এর দশকে নিজস্ব নাগরিকত্ব আইন বানিয়ে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধিবাসীদের অনাগরিক ঘোষণা করেছে মিয়ানমার। এরপর থেকে মিয়ানমার সে দেশের ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা অধিবাসীকে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যা বা জাতিগত নিপীড়ন নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও মিয়ানমার সরকার তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি অন্য দিকে সরিয়ে নিয়ে নতুন একটি ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা হিসেবে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মালিকানা ইস্যু নিয়ে এসেছিলো গত বছরের সেপ্টেম্বরে।
কৃতির নৈসর্গিক লীলাভূমি এক স্বপ্ন দ্বীপের নাম সেন্টমার্টিন। এটি দেশের সবচেয়ে
আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। যা ভ্রমণ পিয়াসীদেরকে মুহূর্তেই আচ্ছন্ন ও
মোহাবিষ্ট করে ফেলে। তাই এই দ্বীপের আকর্ষণেই প্রতিদিনই হাজারো দেশী-বিদেশী
পর্যটকদের আগমন ঘটে। এই সাগর দুহিতা আদিকাল থেকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল, এখনও
আছে।
কিন্তু গতবছর মিয়ানমারের সরকারি ওয়েবসাইটে মুদ্রিত মানচিত্রে এই প্রকৃতি কন্যাকে
সেদেশের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। যা মিয়ানমার সরকারের অপ্রতিবেশীসূলভ ধৃষ্টতা
হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। মূলত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও এতদসংলগ্ন ছেঁড়া দ্বীপের
মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বা অন্য কোন দেশের সাথে অনিষ্পন্ন মালিকানা
বিরোধ অতীতে ছিল না; এখনও নেই। সমুদ্রসীমা নিয়ে দেশটির সাথে যে বিরোধ ছিল সেটি
আন্তর্জাতিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে বেশ আগেই। এরপরও এ দ্বীপ নিয়ে নেইপিডোর
দায়িত্বহীন ও উস্কানিমূলক তৎপরতার পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই মনে করা
হচ্ছে।
এদিকে ২০১২ সালে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি হয়
বাংলাদেশের। বাংলাদেশের মোট আয়তনের একটি বড় অংশ অতিরিক্ত পাওয়ায় এটাকে বাংলাদেশ
সমুদ্রসীমা বিজয় হিসেবে দেখেছিলো। ২০১২ সালের ১৪ মার্চ ট্রাইব্যুনাল ইটলস
(ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর টি ‘ল অফ টি সি) এর রায়ে বিরোধপূর্ণ বিশাল
সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে বাংলাদেশের বিস্তৃত
২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের জন্য অসীম
সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়। ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায়
(যা দেশের স্থল ভাগের ৭১ শতাংশ অর্থাৎ চার ভাগের তিন ভাগ) বাংলাদেশের সার্বভৌম
অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে উদ্যোগ নেন। তিনি
টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম আইন করেছিলেন।
তবে বাংলাদেশের মালিকানায় অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপকে মাঝে মধ্যেই নিজেদের বলে
দাবি করে বসে মিয়ানমার। অথচ আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় এই দ্বীপ বাংলাদেশের সীমানার
ভেতরই অবস্থিত। আর মূলত রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করেই এই ইস্যু থেকে চোখ সরানোর
জন্যই মায়ানমার সেন্টমার্টিনের দিকে নজর দিয়ে বসে।
বাংলাদেশ আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারকে বাংলাদেশ অনুরোধ জানালেও সেই অনুরোধকে কর্ণপাত করেনি তারা। পরবর্তীতে তারা ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সংখ্যায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে তারা। এরপর সেই ঘোষণাও তারা স্থগিত করে। এদিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলা মিয়ানমার কোনো কাজই তারা ঠিকমতো করতে পারেনি। আর এই টালবাহানাকে কেন্দ্র করেই মিয়ানমার বিভিন্ন সময়ে নির্লজ্জের মতো বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে বসছে তারা। কিন্তু সেন্টমার্টিনের মতো বিরোধহীন একটি ইস্যুকে চাঙ্গা করে রোহিঙ্গা নিপীড়ন বা জাতিগত নির্মূলের দায় থেকে কি রেহাই পাওয়া যাবে?
সূত্র-বাংলার আলো
বাসাইলসংবাদ/একেবি




