
বাসাইলসংবাদ: বুধবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক:
এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ডিজিটাল হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই 4G যুগেপ্রবেশ করেছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ নানা ধরণের নাগরিক সেবাজনগণ পেয়ে থাকেন অনলাইনেই। বাংলাদেশের গর্ব করার মতো আছে অনেককিছুই। এই দেশে অনেক পর্যটক-আকর্ষক স্থান আছে। এর মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিকনিদর্শন, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মিনার, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত,পাহাড়, অরণ্য ইত্যাদি অন্যতম। গর্ব করার তালিকাটা অনেক দীর্ঘ। এইতালিকায় আরেকটি নাম যুক্ত হল-জাতীয় তথ্য বাতায়ন (https://bangladesh.gov.bd)।
বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি ওয়েব পোর্টালের মালিক এখন বাংলাদেশ। সরকারের সব ধরণের সেবা কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজেশন করতে তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীরসবচেয়ে বড় ওয়েবসাইট। দেশের সব ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ,অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘জাতীয়তথ্য বাতায়ন’ নামের এই পোর্টালটি। ২৫ হাজার ওয়েবসাইটকে একত্র করেকেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে ন্যাশনালপোর্টাল বা জাতীয় বাতায়ন। যেখানে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।প্রশাসনের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করে দ্রুত সেবাপ্রদানও তথ্য-প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ডিজিটাল দেশ গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় তথ্য-বাতায়নের যাত্রাশুরু হয়। ইউএনডিপি ও ইউএসএইডের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিতপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের উদ্যোগেবাংলা ভাষায় বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি পোর্টালটি তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পুরাকীর্তি,ঐতিহাসিক স্থানগুলোর চার লাখের বেশি ছবি সংযোজন করা হয়েছে। দেশের সবসরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও কর্মকর্তাদের তালিকা উন্মুক্ত করাহয়েছে। রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ ও পে-কমিশনের তথ্যও। এই পোর্টাল থেকে জনগণঅনলাইন সেবার প্রয়োজনীয় সব ধরণের তথ্য যে কোনো স্থান থেকে সার্চ করেনিতে পারছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ, বিচার ব্যবস্থা, সাংবিধানিকবিভিন্ন সংস্থা সমূহ, মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সমূহ, নাগরিক সেবা সমূহ, ব্যবসা সেবা,সরকারী সার্কুলার/গেজেট, জেলা তথ্য বাতায়ন, বাজেট সংক্রান্ত তথ্যসমূহ,পর্যটন সংক্রান্ত তথ্যসমূহ, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক তথ্য, বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা,স্বাস্থ্য সেবা সমূহ, নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সমূহ বিশেষ করে বিসিএস, বাজারদরবিষয়ক তথ্য, বিভিন্ন পরিষেবামূলক তথ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তথ্যইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে এই পোর্টালের মাধ্যমে। মোটকথা, বাংলাদেশ সরকারেরজনপ্রিয় সেবাসমূহের সবরকম তথ্য, সরকারি কাঠামোর মৌলিক তথ্য, সরকারিবিভিন্ন সংস্থার ওয়েবসাইট, ওয়েবে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও লিংক এওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সার্কুলার, ৪০০ ই-সেবা পাওয়ার ধাপ, সরকারি ফরম,সিটিজেন চার্টার, কর্মকর্তাদের তালিকা, ৭ লাখের বেশি ই-ডিরেক্টরি, মুক্তিযোদ্ধাতালিকা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য, জনপ্রতিনিধি, জাতীয় ই-সেবা, বিভিন্নপ্রকল্পের দরকারি তথ্যসহ মোট ২০ লাখেরও বেশি কন্টেন্ট এতে রয়েছে। একইপ্ল্যাটফর্মে ৫ হাজারের বেশি ডোমেইনে রয়েছে সরকারি অফিসের ওয়েবসাইট।৬১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, ৩৪৫ অধিদপ্তর,৭ বিভাগ, ৬৪ জেলা, ৪৮৮উপজেলা, ৪ হাজার ৫৫০ ইউনিয়নসহ মোট ২৫ হাজার ওয়েবসাইট।
জাতীয় তথ্য বাতায়নের এই যাত্রাকে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে এক বিপ্লব বলেমনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র- বাংলার আলো
বাসাইলসংবাদ/একেবি




