
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইল বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপুর্ণ সড়ক-উপসড়ক এবং ফুটপাত দখল করে যত্রতত্র স্থানে বসছে ছোট-বড় যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড। এতে চলাচলে চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

একাধিক পথচারী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- স্থানীয় প্রশাসনের নিরবতার সুযোগে সড়কের দু’পাশ দখল করে যত্রতত্র এসব স্ট্যান্ডের কারনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট। এতে শিক্ষার্থীসহ পথচারিরা যাতাযাতে চরম নিরাত্তাহীন ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। জরুরী রোগী বহনকারী এম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও আটকে পড়ে অনেক সময়। এসব স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পথচারি ও সচেতন মহল।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তার মোড়েই গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন স্ট্যান্ড। এর মধ্যে জিরো পয়েন্ট, কাঁচাবাজার, রেজিষ্ট্রি অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং চারুবাগ সুপার মার্কেট সংলগ্ন এলাকাসহ রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অটোভ্যানের অবৈধ স্ট্যান্ড। এসব স্ট্যান্ডে এলোমেলো দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর চাপে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে যানজটের। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে উপজেলা গেট পর্যন্ত সড়কের দুপাশে পিকআপ ভ্যানের পার্কিংয়ে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পরায় মানুষ ও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তার উপর রোড পারমিট ও লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ট্রাফেট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে চরম নিরাপত্তাহীন ও দুর্ভোগের শিকার শিক্ষার্থী, রোগী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারি ও রাস্তার দুপাশের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ পথচারীরা।
মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও ফলাফল শূন্য। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর কোনো পদক্ষেপ।
ভুক্তভোগিরা বলেন, প্রধান সড়কের দুই পাশ দখল করে এভাবে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় চলাচলের জায়গা ছোট হয়ে গেছে। অপরদিকে বালু, মাটি, ইট, কাঠসহ ভারি পন্যবাহী অবৈধ মাহেন্দ্র ট্রাফেট্রাক্টরের বেপরোয়া গতির কারনে রাস্তায় হেঁটে চলা দায় হয়ে পড়েছে।
বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কোনো প্রয়োজনে বাজারে এলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। রাস্তার দুইপাশ দখল করে অটোরিকশার স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। মাঝখান দিয়ে একটি গাড়ি ঠিকমতো যেতে পারে না। কোন দোকানের সমনে দাঁড়িয়ে যে কেনাকাটা করব তারও কোন সুযোগ নাই।
দোকানীরা বলেন, আমাদের দোকানের সামনে এমনভাবে প্রাচীর করে অটোরিকশা, ভ্যান ও সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকে কোন ক্রেতা আসতে পারে না। এতে আমরা ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। যানবাহনগুলো একটু সরাতে বললেও চালকরা ঝগড়া লাগায়।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যাবসায়ী আখতারুজ্জামান তুহিন, জাহিদ হাসান মজনুসহ একাধিক দোকানদার বলেন, চালকরা নির্ধারিত স্ট্যান্ডে যানবাহনগুলো না রেখে দোকানের সামনে রাখায় কোন ক্রেতা তাদের দোকানে আসতে পারে না। চালকদের কিছু বলতে গেলেও অশুভ আচরণ করে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
বাসস্ট্যান্ডের সিএনজি চালক সেলিম বেগ, ইয়াছিন আলীসহ অনেকেই বলেন, নির্ধারিত স্থানে গাড়ি রাখলে আমরা যাত্রী পাই না। তাই বাধ্য হয়ে জিরো পয়েন্টে গাড়ি রাখতে হয়।
বাসাইল-পাথরঘাটা ও বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কে সিএনজি চালক বাদশা আশরাফ ও অটোরিকশার চালক নাজিম, কোরবানসহ অনেকেই জানান, পেটের দায়ে রিকশা, সিএনজি চালাই। দিনে যা রোজগার হয় তাই দিয়ে চলে সংসার। এ দুটি রোডে সিএনজি বা অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ডের জায়গা নেই। বাধ্য হয়েই রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। এর জন্য সড়কের দুপাশের দোকানদারদের কথাও শুনতে হয়। প্রশাসন নির্দিষ্ট জায়গার স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করলে সবাই রেহাই পেত এই ভোগান্তি থেকে।
বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউজ বলেন, বাসাইল বাসস্ট্যান্ড ও মরাগাঙ্গের পূর্বপাড় ছাড়া আসলে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটো টেম্পুর জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড নেই। এর জন্য গাড়িগুলো রাস্তায় রাখতে হচ্ছে। এতে চালক, যাত্রী, পথচারি ও ব্যবসায়ী সবারই কমবেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর শহরের বেশ কয়েকটি রাস্তা প্রশস্ত করলে এ দুর্ভোগ থেকে অনেকটাই রেহাই পাবে ভুক্তভোগি সবাই।
বাসাইল পৌর সভার মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ বলেন, নির্ধারিত স্থানে গাড়ি, সিএনজি, অটো রাখার নির্দেশ দেওয়া সত্তেও চালকরা ইচ্ছামতো যত্রতত্র স্ট্যান্ড করায় যানজট তৈরি হয়। এসব গাড়ির চাপে আমার বাসার সামনে নিজের গাড়িটি পার্কিং করতে পারি না। শিগগিরই পৌরসভার পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় এ সমস্যাটি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, কয়েকটি রোডে চলাচল করা অটোরিকশা, অটোভ্যান ও সিএনজির নির্ধারিত স্ট্যান্ড নাই। রাস্তার দুপাশে এসব যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখায় সরু রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে যায়। বাসাইল বাসস্ট্যান্ড দখলমুক্ত করে ইতোমধ্যে রাস্তা প্রশস্ত করে সিএনজি দাঁড়ানোর স্ট্যান্ড নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য অনুমোদনহীন স্ট্যান্ডগুলো যে সব সড়কে রয়েছে ওই সড়কগুলো প্রশস্ত করতে পারলে যানজট নিরসন ও পথচারিদের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যাটা চলে আসছে। অনুমোদন ছাড়াই চালকরা কয়েকটি স্পটে তাদের যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করছে। এতে পথচারিদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপরে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর যৌথ অভিযানও চালানো হয়েছে। যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন বাসাইল ও জনদুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাসাইলসংবাদ/ ২০ মে, ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




