
বাসাইলসংবাদ: সোমবার, ০৫ আগস্ট, ২০১৯:

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী পুলিশ সদস্য আব্দুল আলীম সুমন ও তার বন্ধু শামীম আল মামুনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও উভয়কে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের রায় দিয়েছেন টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন । সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এ হত্যা মামলা রায় দেন তিনি।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিশেষ সরকারি কৌশুলী (পিপি) একেএম নাছিমুল আক্তার এতথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ওই নারী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফলিয়ার ঘোনা এলাকার সুলতান আহম্মদের মেয়ে সুমি আক্তার।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হিন্নাইপাড়া এলাকার আবু হানিফের ছেলে আব্দুল আলীম সুমন ও তার বন্ধু একই এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে শামীম আল মামুন।
আব্দুল আলীম সুমন গাজীপুর ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশের সদস্য ছিলেন। গ্রেফতারের পর বরখাস্ত হন তিনি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছে।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৬মে মাসে কালিহাতী উপজেলার হিন্নাই পাড়া এলাকার আবু হানিফের ছেলে পুলিশ সদস্য আব্দুল আলীম সুমনের সাথে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফলিয়ার ঘোনা এলাকার সুলতান আহম্মদের মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সুমিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো সুমন। পরে সুমি তার বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল সুমন মুঠোফোনে তার স্ত্রী সুমিকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। এরপর থেকে সুমির মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সুমির মা সুমনের সাথে যোগাযোগ করলে সুমন যৌতুকের টাকা দাবি করে এবং বিভিন্ন হুমকি দেয় । এঘটনায় সুমির মা বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এঘটনায় অভিযুক্ত সুমনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সুমন তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তুরাগ থানার বেরি বাঁধের পাশ থেকে সুমির লাশ উদ্ধার করে। এ হত্যার সঙ্গে তার বন্ধু শামীম আল মামুনও জড়িত রয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয় সুমন। এঘটনায় ২০১২ সালের ৯মে সুমির মা শিউলি বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




