
নিউজ ডেস্ক : ফুটবলের জাদুকর হিসেবে খ্যাত লিওনেল মেসি ক্লাব কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনে সবসময়ই সেরা। সোনার বুট, ব্যালন ডি’ওর কি নেই তাঁর অর্জনে! তবে এত অর্জনের মাঝেও তাঁর ক্যারিয়ার যেন পূর্ণতা পাচ্ছে না। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব শিরোপাই জিতেছেন। কিন্তু দেশের হয়ে খেলতে নেমে বারবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।

বার্সেলোনার হয়ে খেলতে নেমে ৩৪টি শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। যা একটি রেকর্ড। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য লা লিগায় ১০টি আর চ্যাম্পিয়নস লিগের ৪টি শিরোপা। অথচ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে নেমে ২০০৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও ২০০৮ অলিম্পিকে সোনা জয়ই মেসির সেরা অর্জন।
এছাড়াও বড় টুর্নামেন্টের চারটি ফাইনাল খেলেও শিরোপা অর্জন করতে পারেননি এ আর্জেন্টাইন তারকা। ২০১৪ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হয়ে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হেরে অধরাই রয়ে যায় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। সব ফুটবলারেরই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন থাকে।
হয়তো মেসির ও এমন স্বপ্ন রয়েছে। ক্লাব পর্যায়ে সব অর্জনের বিনিময়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করতে চান কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মেসি বলেছেন, ‘ক্যারিয়ারের সব শিরোপার বিনিময়ে বিশ্বকাপ ট্রপি জয়ের কোনো ইচ্ছা নেই তাঁর। শিরোপা অর্জনের জন্য তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের কোনো কিছুই বদলাতে চান না।’
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওআইসি স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্সা অধিনায়ক এসব কথা বলেন। মেসি আরো বলেন, ‘সব ফুটবলারের মত আমিও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। কিন্তু তাই বলে আমার ক্যারিয়ারের কোনো কিছুই বদলাতে চাই না। ক্যারিয়ারের অন্যান্য শিরোপাগুলোও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আজ পর্যন্ত আমি যা পেয়েছি সবই সৃষ্টিকর্তা আমাকে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে আমার মাঝে কোনো হতাশা নেই। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া অর্জনেই আমি খুশি।’
দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নেমে বরাবরই ব্যর্থ মেসি। আর্জেনটাইন সমর্থকদের মতে, মেসির সকল সফলতা শুধু বার্সেলোনার জন্য। মেসি নিজেও এ নিয়ে খুবই হতাশ। তাইতো দেশের হয়ে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের টানে ও দর্শকের ভালোবাসায় তাঁকে আবারও মাঠে ফিরতে হয়েছে।
ঘুরেফিরে আবারও দেশের হয়ে সেই ব্যর্থতার কুণ্ডলীতেই আবদ্ধ মেসি। তিনটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেও শিরোপার স্বাদ নিতে পারেননি। গত কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাঁর দলকে। রেফারির সমালোচনা করায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন লিওনেল মেসি।




