
বাসাইল সংবাদ :মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৭:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাসাইলসংবাদ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ একজন শতবর্ষী বৃদ্ধা মায়ের দুর্ভোগ নিয়ে “বেটা-বেটিরাই আমার খোঁজ নেয় না..” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। শনিবার (২৬ আগস্ট) প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর জেলার সব মহলেই বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৃদ্ধা ময়মন বেগমকে দেখতে স্থানীয় অনেকেই বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে আসেন, যেখানে বৃদ্ধা অবস্থান করছেন। প্রতিবেদনটি সমাজ সেবা অধিদপ্তরের নজরে আসে।
টাঙ্গাইল জেলা ও বাসাইল উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে সেই বৃদ্ধা ময়মন বেগমকে সোমবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধিনস্থ “সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), টাঙ্গাইলে” নেওয়া হয়েছে। বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন থেকে ওই বৃদ্ধাকে সরকারি গাড়িতে করে টাঙ্গাইলে নেয়া হয়।

বাসাইল উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা হারুন-অর রশীদ বাসাইলসংবাদ’কে বলেন, বৃদ্ধা ময়মন বেগমের বিষয়টি বাসাইলসংবাদ এ প্রকাশ হওয়ার পর আমি বৃদ্ধার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারি।
টাঙ্গাইল জেলা সমাজ সেবা-উপ পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ আমাকে এ বিষয়ে একটি ম্যাসেজও দেন। পরে সোমবার বিকেলে সরকারি গাড়ি যোগে বৃদ্ধা ময়মন বেগমকে “সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), টাঙ্গাইল” নেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, ময়মন বেগমকে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ১৯৯৮ সাল থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দিয়ে তার পাশে রয়েছে। এবার তাকে স্থায়ী একটি ব্যবস্থা করা হল। বিকেলে ওই বৃদ্ধাকে চিকিৎসক দেখানো হয়।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আরো বলেন, “সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)” শিশুদের জন্য হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখানে দশজন বৃদ্ধার আশ্রয়ের অনুমতি রয়েছে। এখানে প্রায় একশ শিশু রয়েছে। এই প্রথম কোন বৃদ্ধাকে আনা হয়েছে। শিশুদের কাছে তাকে দাদু বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এতো শিশুদের মাঝে তিনি এখন অনেকটাই আনন্দে আছেন।
জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ বাসাইলসংবাদ’কে বলেন, সমাজ সেবা অধিদপ্তর সবসময় অসহায় অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই ধারাবাহিকতায় ওই বৃদ্ধার খবর পেয়ে তাকে স্থায়ী একটি ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃদ্ধা ময়মন বেগম বাসাইলসংবাদ’কে বলেন, আমি ওগোরে নিয়া ভালোই আছি। যারা আমারে থাকা খাওয়া ব্যবস্থা করলো আল্লাহ যানি তাদের ভাল করেন। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ যানি আমার মতো বুড়ো আর কাউকে না বানায়।

এর আগে ওই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছিল “ঠিকানা” নামের একটি সংগঠন। সংঘঠনটি এতোদিন বৃদ্ধার খাওয়া-দাওয়ার খরচ চালিয়েছিল। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তার ঘরটি মেরামত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।
সংঘঠনটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান রুমেল বাসাইলসংবাদ’কে বলেন, আমরা বৃদ্ধার দায়িত্ব নিয়েছিলাম। সাধ্যমত খাবারের ব্যবস্থা করেছিলাম। বর্তমানে সরকারিভাবে তাকে সহযোগিতার করায় সমাজ সেবাকে সাধুবাদ জানান তিনি।
এদিকে ২৬ আগস্ট দুপুরে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর জেলার সব মহলেই বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৃদ্ধা ময়মন বেগমকে দেখতে অনেকেই হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে যান। বাসাইল পৌরসভার মেয়র মজিবর রহমান, সেবামুলক সংঘঠন “ঠিকানা”সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ওই বৃদ্ধাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের বাসাইলে বৃদ্ধা মাকে সন্তানরা ভরণপোশন না করায় এবং বন্যার পানি ঘরে উঠায় শতবর্ষী ওই বৃদ্ধা আশ্রয়ের জন্য যান এক আত্মীয়র বাড়িতে। কিন্তু আত্মীয়রা তাকে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে রেখে যায়। পরিত্যক্ত ভবনে থাকা অসহায় এই বৃদ্ধাকে ছেলে-মেয়েরা দেখতেও আসেননি।
বাসাইল সংবাদ/একে
সকলের অবগতির জন্য অনুগ্রহ পূর্বক নিউজটি শেয়ার করুন




