
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আনন্দ নেই ধানকাটা শ্রমিকদের। অভাবের তারনায় ঈদের দিনেও ধানকাটতে হয়েছে তাদের। ফলে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে এবার ঈদের আনন্দটা উপভোগ করতে পারেননি তারা। কৃষকের বাড়িতে ঈদের আয়োজনের খাবার খেলেও অন্য জেলার হওয়ায় করোনা ঝুঁকিতে ঈদের নামাজ পড়তে পারেনি শ্রমিকরা।

এদিকে টাঙ্গাইল জেলায় অধিকাংশ ধানকাটা শ্রমিক ঈদের দিনে বেকার হয়ে বসে রয়েছেন। ফলে তারা ঈদের আয়োজনের খাবার পোলাও-সেমাই তো দূরের কথা দিনটি কেটেছে তাদের অনাহারে।
সরেজমিনে জেলার বাসাইল উপজেলার কলিয়া গ্রামে ঈদেরদিন সোমবার (২৫ মে) দুপুরে গিয়ে দেখা মিলে ধানকাটা শ্রমিকদের। কলিয়া আটারচকে কৃষক বাবর আলী খানের ধান কাটছেন ৭জন শ্রমিক। দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার সর্দারপাড়া গ্রাম থেকে আসা শ্রমিক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘ধান কেটে ঈদ কাটালাম। অভাব ও করোনাভাইরাসের কারণে বাড়িতে যাওয়া হয়নি। ছেলে-মেয়েরা ফোন করে কান্না করছিল। এই প্রথম পরিবারের সদস্যদের ছাড়া ঈদ করলাম। গিরস্ত আমাদের জন্য সেমাই-ভাত ও মাংস রান্না করেছিলেন।’

শ্রমিক আব্দুল হাশেম বলেন, ‘পরিবারে অভারে কারণে প্রতি বছর ধানকাটা শ্রমিকের কাজ করতে আসি। এবছর করোনাভাইরাসের কারণে গাড়ি বন্ধ থাকায় বাড়িতে যেতে পারিনি। এজন্য এবারের ঈদ ধান কেটেই কাটাতে হলো। পরিবারের সদস্যদের ছাড়া ঈদ করা কেমন কষ্ট লাগে তা আজ বোঝলাম।’
কৃষক বাবর আলী খান বলেন, ‘গত দুইদিন আগে ৭জন শ্রমিককে আনা হয়েছে। আজ ঈদের দিন নিজের পরিবারের সদস্যদের মতোই তাদের জন্য রান্না করা হয়েছিল। ঈদেরদিন হওয়ায় তাদেরকে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কাজ করেই যাচ্ছেন।’

এদিকে বাসাইল সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সামনে দেখা মিলে শতাধিক ধানকাটা শ্রমিকের। কেউ বসে আছেন। আবার কেউ শুয়ে রয়েছেন। মুখ দেখলেই যে কেউই বোঝবে তারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। ঈদের দিন হওয়ায় তাদের কোন কৃষক নিতে আসেনি। এজন্য দিনটি কাটাতে হয়েছে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সামনেই। অলিখিত লকডাউন ও ঈদের জন্য বাসাইল বাজারের খাবের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দুমুঠো ভাত পেটে যায়নি তাদের। ঈদের আনন্দটা কি তারা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সামনে অবস্থান করে বুঝেনি। এসময় কথা হয় কুঁড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার চরশাজাই মন্ডলপাড়া গ্রাম থেকে আসা শ্রমিক দুলাল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সাথে ঈদ কাটাতে বাড়িতে যাওয়ার জন্য রবিবার (২৪ মে) বের হয়েছিলাম। কিন্তু গাড়ি না চলার কারণে যেতে পারিনি। আবার ঈদেরদিন হওয়ায় কোনও কৃষক শ্রমিক নিতেও আসেনি। এ জন্য বসে রয়েছি। এখানে বসে তো আর ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবো না। বাজারেও দোকানপাট বন্ধ আমরা না খেয়ে বসে রয়েছি।’

একই জেলার চিলমারী উপজেলা থেকে আসা আরেক শ্রমিক আনছের আলী বলেন, ‘ঈদের দিনে মানুষ নতুন জামা-কাপড় পড়েন। কিন্তু আমাদের নতুন জামা-কাপড় তো দূরের কথা দুমুঠো ভাতও জুটেনি কপালে। এই প্রথম বাইরে ঈদ কাটালাম। বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় যেতে পারিনি। ছেলে-মেয়েরা ফোন করে কান্না করছিলো। তখন বুঝলাম আসলেই আজ ঈদ।’

শ্রমিকদের রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছেন বাসাইল পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ
এদিকে বিষয়টি নজরে আসে বাসাইল পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদের। তিনি শ্রমিকদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেন। শ্রমিকরা খাবার পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ।
…বাসাইলসংবাদ/ ২৬ মে, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




