
নিউজ ডেস্ক : নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। অন্য রোগীদের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা সংক্রমণের বেশি ঝুঁকিতে আছে বলছেন বিশেষজ্ঞরা, যদিও বিষয়টা এখনো স্পষ্ট নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেইলার কলেজের অধ্যাপক ও ডিন পিটার হোটেজ সিএনএনকে বলেন, আমরা জানি বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চ মৃত্যুর হার রয়েছে, কিন্তু আমরা এটা জানি না, সামনের সারির স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা তাদের কম বয়স হওয়া সত্ত্বেও গুরুতর অসুস্থতার জন্য বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন কিনা।

হোটেজ সিএনএনকে বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আর কিছু নেই। হোটেজের এ মন্তব্যের এক সপ্তাহ পর জানা যায়, আমেরিকান কলেজ অব ইমার্জেন্সি ফিজিশিয়ানরা বলেছে, করোনাভাইরাস থেকে আক্রান্ত দুজন চিকিৎসক গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন ওয়াশিংটন রাজ্যের চল্লিশ বছর বয়সী একজন এবং নিউজার্সির ৭০ বছর বয়সী একজন চিকিৎসক। তবে ওয়াশিংটনের চিকিৎসক ঠিক কী কারণে অসুস্থ হয়েছেন, তা সঠিক জানা যায়নি। চিকিৎসক হিসেবে সার্ভিস দেয়ার মাধ্যমে হয়েছে নাকি কমিউনিটি থেকে তা ঠিক স্পষ্ট নয়। তবে তিনি প্রাসঙ্গিক সব প্রটোকল মেনে চলেন বলেই জানিয়েছে আমেরিকান কলেজ অব ইমার্জেন্সি ফিজিশিয়ানস (এসিইপি)।
তবে এসিইপি মাধ্যমে এটা জানা যায়, নিউজার্সির ডাক্তার, জরুরি প্রস্তুতি বিশেষজ্ঞ, শ্বাসকষ্ট-সংক্রান্ত একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং শনিবার পর্যন্ত একটি নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার একটি লিখিত বিবৃতিতে এসিইপি সভাপতি ড. উইলিয়াম জাকিস বলেছেন, ‘এ খবর শুনে আমি গভীরভাবে দুঃখিত, কিন্তু অবাক হইনি। জরুরি চিকিৎসক হিসেবে, আমরা ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জানি। আর আমরা আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছি।’
চীনের উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডা. লি ওয়েনলিয়াং নভেল করোনাভাইরাস সম্পর্কে আগাম সতর্ক করে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তিনি হাসপাতালে কাজ করার সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনি ৩০ ডিসেম্বর ভাইরাসটি নিয়ে সহকর্মীদের কাছে একটি সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সবাইকে সংক্রমণ এড়াতে প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরার কথা বলেন। যদিও পুলিশ তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ এনেছিল। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. লি করোনাভাইরাস নিয়ে তার প্রাথমিক সতর্কবার্তা পাঠানোর এক মাস পর তিনি হাসপাতালের বিছানা থেকে ওয়েইবোতে তার এ গল্প পোস্ট করেন। পরে তার মৃত্যু হয়।
ডা. হোটেজ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের পাশে থাকা এবং রোগীদের যত্ন নেয়া এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও বর্তমান কোনো সরকারেই বিকল্প কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই সামনে থেকে যারা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের স্বাচ্ছন্দ্য দেয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই কিছু করতে হবে।
…বাসাইলসংবাদ/ ১৮ এপ্রিল, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




