
বাসাইলসংবাদ: শনিবার, ০৯ মার্চ, ২০১৯:

॥ জোবায়ের হোসেন ॥
এক বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে তাসমিয়া ডায়রিয়া-নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। স্ত্রী শিশুটিকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন ঢাকার একটি হাসপাতালে। তাই ৫দিনের ছুটি নিয়ে গত ৭ মার্চ কর্মস্থল বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে ছুটি নিয়ে সরাসরি ঢাকায় স্ত্রী সন্তানের কাছে চলে যান সেনা সদস্য আজিজুল ইসলাম। অপরদিকে ৬ মার্চ গ্রামে তার ছোট ভাই রাসেলকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর করে স্থানীয় কামরুল ও তার সঙ্গীয়রা। সেই ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য শুক্রবার (৮মার্চ) নির্ধারিত করা হয়। কিন্তু বিচারের আগেই বৃহস্পতিবার (৭মার্চ ) কামরুল ও তার সঙ্গীয়রা ফের রাসেলকে মারধর করে। বিচারের আগে কেন তার ভাইকে ফের মারা হলো তা জানতে সেনা সদস্য আজিজুল ইসলাম পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় মাতাব্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে কামরুল ও তার সঙ্গীয়রা তাদের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত আজিজুলকে প্রথমে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে সেনা সদস্য আজিজুলের মৃত্যু হয়।
এদিকে, আজ শনিবার (৯ মার্চ) লাশ ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের বাড়ি উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের দেওভোগ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে তৈরি হয় শোকের মাতম। নিহত আজিজুলের মায়ের কান্না, স্ত্রী ইয়াসমিনের কান্না থামছিলোনা কোনভাবেই, আজিজুলের উদ্দেশ্যে বার বার আকুতি করছিলেন তাকে ফেলে না যেতে। তাকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা ছিলোনা কারও কাছেই। এক বছরের ছোট্ট শিশু তাসমিয়াতো বুঝতেই পারছিলোনা কি হারালো সে।
অবশেষে বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয় সেনা সদস্য আজিজুলের।
উল্লেখ, এ ঘটনায় মির্জাপুর থানায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছোট ভাই রাসেল। গ্রেফতারও হয়েছে ৫ জন।
নিহতের স্বজন ও গ্রামবাসীর দাবি, অতিদ্রুত মামলার সব আসামি গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে এভাবে কোন মায়ের বুক খালি না হয়, স্ত্রীকে বিধবা না হতে হয়, কোন সন্তানকে হতে হয় এতিম।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




