
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাসান আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের দাবীতে অপসারণ চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

রবিবার (১২ মে) সকালে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্বাক্ষরিত একটি অনুলিপি জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেয়া হয়। এরআগেও গত ৯ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজের সভাপতি বরাবর অপসারণের ওই চিঠি দেয়া হয়।
লিখিত চিঠিতে বলা হয়েছে, লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাসান আলী দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে কলেজের গাছ বিক্রি, ভর্তি ও ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অবৈধ বাড়ি ভাড়া, বিএমটি (বিএম) শাখার টাকা আত্মস্যাত, শিক্ষক নিয়োগে ঘুষগ্রহণ, টাইমস্কেলের জন্য বাড়তি টাকা আদায় ও ব্যবস্থাপনা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পায় অডিট কমিটি। পরে তদন্ত কমিটির সুপারিশের গভানির্ং বডি অধ্যক্ষ হাসান আলীকে ৬মাসের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজের উপাধ্যক্ষ গোলাম রব্বানীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে এর বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ হাসান আলী প্রতিকার চেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে লিখিত আবেদন দেন। অধ্যক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক ফাহিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাধ্যতামূলক চিঠি বাতিল করে হাসান আলীকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এদিকে লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজে পূনার্ঙ্গ কমিটি না থাকায় অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালনে জটিলতা দেখা দেয়। এতে কলেজে এডহক কমিটি ওই অনিয়মের সত্যতা পাওয়া অধ্যক্ষকে দায়িত্ব না দেয়ার জন্য এবং কলেজ দূর্নীতি মুক্ত রাখার জন্য এবং অধ্যক্ষ হাসান আলীর অপসারন চেয়ে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
কলেজের একাধিক শিক্ষকরা জানান, হাসান আলী কলেজে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীত করেছে। ইচ্ছেমত টাকা আত্মস্যাত করেছে। তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই গঠিত তদন্ত কমিটিও তার বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন খাতের টাকা আত্মস্যাত, গাছ টাকার টাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পায়। এই নিয়ে দুইবার তাকে জবাব দিতে নোটিশও দেয়া হয়েছিল। পরে ২২ জানুয়ারি অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রমাণ সত্যতা পাওয়ায় গভর্নিং বডি অধ্যক্ষ হাসান আলীকে বাধ্যতামূলক ৬ মাসের ছুটিতে পাঠায়। কিন্তু ওই দুর্নীতিগ্রস্থ অধ্যক্ষ কলেজে পুনরায় যোগদান করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী রতন বলেন, যেহেতু কলেজের নির্বাচিত গভর্নিং বডি ওই অধ্যক্ষকে শাস্তি দিয়ে ছুটি দিয়েছে সেখানে এড কমিটি কোনভাবেই তাকে কলেজে পুনরায় যোগদান করতে দিতে পারেন না। নতুন করে গভর্নিং বডি গঠিত হওয়ার পর সেই কমিটি চাইলে হাসান আলীকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজের সভাপতি মামুনুর রশীদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাসাইলসংবাদ, ১২ মে, ২০২৪ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন






