
বাসাইলসংবাদ: বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৮:

বাসাইলসংবাদ ডেস্ক:
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহুদিন আগে গানে গানে লিখেছিলেন ‘প্রাণ চায়, চক্ষু না চায়, মরি একি তোর দুস্তরলজ্জা’। সারাদেশের বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন পড়েছেন এই গানের কথার মতোই দোটানায়। একে তো নিজেদের শাসনামলগুলোতে দেশবাসী গ্রেনেড-বোমা আর বিদ্যুতবিহীন খাম্বা ছাড়া কিছুই পায়নি। তার ওপরে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার একের পর এক উন্নয়নের মাইলফলক স্পর্শ করে চলেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে হেঁটে চলেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ গোটা জাতি। একের পর এক মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বাসীকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ‘এশিয়ার উদীয়মান বাঘ’ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে অভিহিত করা হচ্ছে বাংলাদেশকে।
এতসব সফলতার ভীড়েও বিএনপি তাদের স্বভাবসুলভ বিরোধীতা অব্যাহত রেখেছে। “প্রয়োজনে চোখে টিনের চশমা দিবো, তবু ‘উন্নয়ন’ স্বীকার করবো না” এমনটিই মনোভাব তাদের।
তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ দলীয় আনুগত্যকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের প্রশংসা করছেন।
জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান। অন্যদিকে মনিরুল আলম সেন্টু এই উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। উভয়েই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত।
আজাদ বিশ্বাস একাধারে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে মনিরুল আলম সেন্টু ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি। তারা দুজনেই নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের বাসিন্দা, এ এলাকার সাংসদ নন্দিত জননেতা একেএম শামীম ওসমান।
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক একেএম শামসুজ্জোহার সন্তান একেএম শামীম ওসমান। তিন পুরুষ যাবত তাদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস। তাঁর রত্নগর্ভা মা প্রয়াত নাগিনা জোহা একজন ভাষাসৈনিক।
১৯৯৬ সালে বয়সে তরুণ শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে তাঁর এলাকায় রেকর্ড ২৪০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেন। ২০১৪ সালে নৌকা প্রতীকে পুনরায় সাংসদ হন তিনি। এবার তিনি ভেঙে ফেলেন অতীতের সকল রেকর্ড। ৭৪০০ কোটি টাকার কাজের মাধ্যমে তিনি জনগণের হৃদয় জয় করে নেন। শামীম ওসমানের প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় ‘ডিএনডি’র জলাবদ্ধতা নিরসনে চলছে মেগা প্রজেক্টের কাজ।
উন্নয়নের সুফল পেয়ে নির্বাচনী এলাকায় শামীম ওসমানের নামে জয়ধ্বনি ওঠে।
বাদ যাননি উল্লেখিত দুই চেয়ারম্যানও। ডিএনডিকে ঘিরে মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু করায় গত বছরের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ফতুল্লার দেলপাড়াতে অনুষ্ঠিত সেই সমাবেশে যেচে গিয়ে হাজির হন আজাদ ও সেন্টু। সরকারের উন্নয়নের প্রশংসা করে রাখেন বক্তব্য। উন্নয়নের রূপকার শামীম ওসমানকে পুনরায় নৌকা মার্কায় নির্বাচিত করতেও আহ্বান জানান বিএনপির বড় পদধারী এই দুই নেতা।
এর আগেও আজাদ-সেন্টু দু’জনেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারের ব্যাপক প্রশংসা করেন। এমনকি বিএনপি নেতা সেন্টু শামীম ওসমানকে ‘পীর’ আখ্যা দিয়ে তাকে নির্বাচিত করতে আহ্বান জানান।
কথায় বলে, ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’।তাই বিএনপি মুখে যতই বলুক যে উন্নয়ন হয়নি, তা জনগণের কাছে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া কিছুই না।
সূত্র-অদ্বিতীয় বাংলা
বাসাইলসংবাদ/একে




