
নিজস্ব প্রতিবেদক : বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ছিলেন একজন নিরহংকার সাদা মনের মানুষ। নিজ গ্রামসহ আশপাশের মানুষ তাকে কালাম মৌলভী নামেই বেশি চিনতেন। ছোট-বড় সবার সাথেই তিনি খবু সহজেই মিশতে পারতেন। এলাকায় শীর্ষপর্যায়ের জমির মালিকদের মধ্যে একজন থাকা সত্বেও তার মাঝে কোনও অহংকারী ভাব ছিল না। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এই মানুষটি মাওলানা আকরাম আলী দাখিল মাদরাসায় সহ-সুপারের দায়িত্বও পালন করেছেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি গত মঙ্গলবার (৯ মে) ভোরের দিকে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাকে হারিয়ে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বীরমুক্তিযোদ্ধা, তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুমহল ও বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ (৬৭) টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ভৈরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখেগেছেন। তিনি মাওলানা আকরাম আলী দাখিল মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার জন্য জমিদান করেন। মূলত তার জমিদানের মধ্যদিয়েই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তিনি তার নিজ এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্যও জমিদান করেন। দীর্ঘদিন এ মাদরাসা ও মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তিনি এলাকায় খুব সহজসরলভাবে জীবনযাপন করতেন। ওইদিন দুপুরে মাওলানা আকরাম আলী দাখিল মাদরাসা মাঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তারের নের্তৃত্বে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এসময় বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। এরপর একই মাঠে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম খান, বাসাইল প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন আহমেদ, বাসাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সাভারের নাল্লা পোল্লা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুওবাইদা, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যাপক আবদুস ছামাদসহ অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাসাইলসংবাদ, ১১ মে, ২০২৩ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




