
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে পুকুরের চোরাবালিতে আটকে পড়ে দুইটি গরু। সময়ের সাথে সাথে চোরাবালিতে তলিয়ে যেতে থাকে অবলা প্রাণী দুটি। পোষা পশু দুটির এমন অবস্থা দেখে শহরের পূর্বআদালত পাড়ায় কেসো মাদবরের পুকুর পাড়ে মায়া কান্না কাঁদতে থাকে গরু দুটির মালিক শহরের আদি টাঙ্গাইলের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। কান্নার শব্দে আশেপাশের অনেক মানুষ পুকুর পাড়ে ভিড় করলেও গরু দুটি উদ্ধারে চোরাবালির ভয়ে এগিয়ে আসেনি কেউ। ঠিক সেই সময় গরু দুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুধবার সকালে চোরাবালিতে নেমে গরু দুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তারা।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বআদালত পাড়ায় কেসো মাদবরের একটি পুকুরের অর্ধেক অংশ দীর্ঘদিন আগে বালু ফেলে ভরাট করে। পরে সেখানে পানি জমে চোরাবালিতে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় আদি টাঙ্গাইলের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তির দুটি গরু ঘাস খেতে খেতে হঠাৎ করে ওই পুকুরের চোরাবালিতে আটকে যায়। পরে গরুর মালিক গরু দুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গরুগুলোকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। গরুর মালিক অক্ষত অবস্থায় গরু দুইটি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটি পুুকুরের চোরাবালিতে দুইটি গাভী আটকে যায়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে গরু দুইটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে গরুর মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’ প্রাণী হোক আর মানুষ হোক প্রতিটি জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা উদ্ধার করার চেষ্টা করেন বলেও তিনি জানান।
গরুর মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সকালে গরু দুইটিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে পুুকুরের চোরাবালিতে আটকে যায়। আমি অনেক চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারিনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে গরু দুইটি উদ্ধার করেন।’
…বাসাইলসংবাদ/ ০৩ জুন, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




