
বাসাইলসংবাদ: রবিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৯:

বাসাইলসংবাদ ডেস্ক :
গো-ও-ল, গো-ও-ল! শনিবার রাতে একটু পরপরই ধারা ভাষ্যকারদের এই গগনবিদারী চিৎকারে প্রকম্পিত হয়েছে পার্স ডি প্রিন্সেস স্টেডিয়ামের আকাশ-বাতাস! মাইক্রোফোনে ধারাভাষ্যকারে বজ্রকণ্ঠের রোমাঞ্চকর ‘গো-ও-ল’ চিৎকার পুরো ম্যাচেই আনন্দে নাচিয়েছে পার্স ডি প্রিন্সেসের গ্যালারি।
একটু ভুল হলো! পুরো ৯০ মিনিট নয়, পিএসজির দর্শকেরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে গ্যালারি কাঁপিয়েছে আসলে ৭৯ মিনিট। কারণ, পিএসজির গোল উৎসবের শুরুটা ১১ মিনিটে। এরপর একটু পরপরই উৎসবে মেতে নেইমার, এমবাপে, কাভানিরা দুর্বল গ্যাগোকে ভাসিয়েছে ৯ গোলে। হ্যাঁ, কাল রাতে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ম্যাচে গুইনগাপম্পকে ৯-০ গোলে ভাসিয়েছে পিএসজি।
এই তো ক’দিন আগে ইংলিশ লিগ কাপে ব্রাইটন আলবিওনকে ৯-০ গোলে হারিয়ে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সেমিফাইনালে সেটিই সবচেয়ে বড় জয়। কাল পিএসজিও রেকর্ডের স্বাদ পেয়েছে। তবে নতুন রেকর্ড নয়। নিজেদেরই পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে। এই তো ২০১৬ সালে এই লিগ ম্যাচেই ট্রোয়োসকে ৯-০তে ভাসিয়েছিল পিএসজি। পিএসজির ক্লাব ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
রেকর্ডে ভাগ বসানোর পাশাপাশি পিএসজি নিয়েছে চরম প্রতিশোধ। ক’দিন আগে এই গুইনগাম্পের কাছে হেরেই লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছে দৈত্য পিএসজি। কাল নিজেদের মাঠে সেই গুইনগাম্পকে পেয়ে রীতিমতো ছেলেখেলাই করলেন নেইমার-এমবাপে-কাভানিরা।
বারবার শুধু নেইমার, এমবাপে, কাভানিদের নাম বলা হচ্ছে, কারণ পিএসজির ৯ গোলের ৮টিই করেছেন এই তিনজনে মিলে। তবে তিনজনের মধ্যকার লড়াইয়ে তরুণ কিলিয়ান এমবাপে ও অভিজ্ঞ এডিনসন কাভানি সমানে সমান। নেইমার একটু পিছিয়ে।
গুইনগাম্পকে বাগে ফেলে এমবাপে ও কাভানি, দুজনেই করেছেন হ্যাটট্রিক উৎসব। নেইমারের ভাগ্যে সেই উৎসব জুটেনি একটুর জন্যে। ব্রাজিল তারকা করেছেন ২ গোল। পিএসজির অন্য গোলটি করেছেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডার টমাস মুনিয়ের।
ফ্রেঞ্চ লিগে পিএসজি এখনো পর্যন্ত অপরাজিত। মানে কালকের আগে ১৮ ম্যাচের ১৬টিতেই জয় ছিল। বাকি দুটিতে ড্র করেছে। এই দুর্বার পিএসজির সামনে পুঁচকে গ্যাগো পাত্তা পাবে না, এটা অনুমিতই ছিল। তবে এমন করুণ পরিণতি যে অপেক্ষা করছে, সেটি বোধহয় ম্যাচে আগে গুইনগাম্প হয়তো কল্পনা করতে পারেনি।

নিজেদের মাঠে পিএসজির হয়ে গোল উৎসবের শুরুটা করেন আক্রমণ ত্রয়ীর অন্য দুজনের চেয়ে পিছিয়ে থাকা নেইমার। তিন প্রথম দলকে এগিয়ে দেন ১১ মিনিটে। এরপর প্রদীপের আলোটা কেড়ে নেন তরুণ এমবাপে। ফরাসি বিস্ময়বালক ৩৭ ও ৪৫ মিনিটে করে বসেন ২ গোল। ৩-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় পিএসজি। মানে প্রথমার্ধে কাভানিকে শুধু সতীর্থদের উদযাপনের স্বাক্ষী হয়েই থাকতে হয়।
কিন্তু সেটা কি আর ভালো লাগে! বিরতি থেকে ফিরেই তাই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। ৫৯ ও ৬৬ মিনিটে তিনিও করে ফেলেন ২ গোল! নেইমার পিছিয়ে থাকবেন কেন? ৬৮ মিনিটে তিনিও মিলিয়ে ফেলেন এমবাপে-কাভানির দুইয়ের নামতা। যদিও নেইমার পরে আর এমবাপে-কাভানির হ্যাটট্রিক নামতা মেলাতে পারেননি।
হ্যাটট্রিকের স্বাদ প্রথম পান কাভানি। ৭৫ মিনিটে দারুণ এক গোল করে এই কীর্তি গড়েন তিনি। তার ঠিক ৫ মিনিটই পরই এমবাপে মেতে উঠেন হ্যাটট্রিক উদযাপনে। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে গ্যাগোর জালে বল ফেলে দুই বছর আগে গড়া নিজেদের রেকর্ডে ভাগ বসানোর কাজটা করেন মুনিয়ের।
বিশাল এই জয়ে লিগ শিরোপাটা বলতে গেলে পিএসজির এক রকম নিশ্চিতই গেল। ১৯ ম্যাচেই তাদের পয়েন্ট হলো ৫৩। তাদের চেয়ে দুই ম্যাচ বেশি খেলেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিলের পয়েন্ট ৪০।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




