
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভ‚গছেন এক গৃহবধূর পরিবার। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে অভিযুক্ত সাকিব মিয়া। মামলা তুলে না নেওয়ায় ওই নববধূর স্বামীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাকিবের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। এমনটাই দাবি ভিকটিমের পরিবারের।

অভিযুক্ত সাকিব মিয়া (২৪) বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি বাসাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে। সাকিব ছাড়াও একই এলাকার মৃত হাকিম মিয়ার ছেলে সাইদুল মিয়া (৩০) ও জুয়েল মিয়ার ছেলে মো. শাহেদ মিয়াকেও (২৫) এ মামলায় আসামী করা হয়েছে। বর্তমানে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছে। এদের মধ্যে উচ্চ আদালতের দেওয়া সাইদুল ও শাহেদ মিয়ার ৪২ দিনের জামিনের মেয়াদ শেষ হবে ৯ জুলাই। এদিন টাঙ্গাইলের নিম্ন আদালতে এই দুইজনের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও মূল অভিযুক্ত সাকিব মিয়ার আগামী ১ আগস্ট নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। এরআগে গত ১৬ মে দুপুরে ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে সাকিব ও তার দুই সহযোগির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৪ মে দিবাগত রাতের খাবার খেয়ে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব ও তার দুইজন বন্ধু ওই গৃহবধূর স্বামীকে ডাক দেন। এসময় সাকিব জানায় তার এক স্বজন অসুস্থ তাকে দেখতে যেতে হবে। এজন্য সাকিব ওই গৃহবধূর স্বামীর মোটরসাইকেলটি চেয়ে নেন। পার্শ্ববর্তী বাড়ি হওয়ায় সরল বিশ্বাসে গৃহবধূর স্বামী ঘর থেকে মোটরসাইকেলটি বের করে দেন। পরে মোটরসাইকেলটি কিছুদূর নিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তার স্বামীকে ডাকতে থাকেন এবং মোটরসাইকেলটি স্টার্ট করে দিতে বলেন। এসময় তার স্বামী মোটরসাইকেলটি স্টার্ট দিতে গেলে কৌশলে সাকিব ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে মুখ বেধে ধর্ষণ করতে থাকে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুখের বাধন খুলে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এসময় তার স্বামী ও আশপাশের লোকজন এসে সাকিবকে হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে তার অন্য সহযোগিরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাকিবকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এ বিষয়ে কাউকে জানালে বা মামলা করলে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয় তাদের। এ ঘটনায় বাসাইল থানায় পুলিশ মামলা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী ওই নারী আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর শাশুড়ি বলেন, ‘আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছে। মূল আসামী সাকিব জামিন নিয়ে এসে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। আমার ছেলেকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো কারও সাহস নেই। মামলার পর থেকে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২ ও ৩ নম্বর আসামী সাইদুল এবং শাহেদ মিয়ার ৯ জুলাই উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হবে। তারা ওইদিন নিম্নআদালতে হাজির হবে। এছাড়াও আগামী ১ আগস্ট মামলার মূল আসামী সাকিবও নিম্ন আদালতে হাজির হবে। আমরা তাদের জামিনের বিরোধীতা করবো। আমরা যেনো ন্যায় বিচার পাই। তাদের এমন শাস্তি চাই যাতে আর কোনও নারী এভাবে যেনো ধর্ষণের শিকার না হয়।’
ভিকটিমের আইনজীবী মারিয়াম আক্তার বলেন, ‘এ মামলায় তিনজন আসামী রয়েছে। তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছে। এদের মধ্যে ২ ও ৩ নম্বর আসামীর জামিনের মেয়াদ শেষ হবে ৯ জুলাই। এদিন তাদের নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও ১ আগস্ট মামলার মূল আসামী সাকিবেরও জামিনের মেয়াদ শেষ হবে। তারা যাতে নিম্ন আদালতে জামিন না পান এজন্য আমরা বিরোধীতা করবো।
বাসাইলসংবাদ, ০৭ জুলাই, ২০২৩ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




