
নিউজ ডেস্ক : দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমে যাওয়ায় ‘বেশি খুশি’ হয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানার ফলেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) কর্তৃক আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোভিড মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছিলাম। জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের প্রশংসা করেছে।…আমরা খুশি হয়েছিলাম। আমরা যে বেশি খুশি হলাম, সেটাই আমাদের জন্য কাল হয়ে গিয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে গিয়েছিল। বান্দরবান, কক্সবাজার ও অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ২৫ লাখ লোক গেছে গত এক মাসে। বাস, ট্রাক, রাস্তাঘাটে কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেনি। সেটা আমাদের জন্য কাল হয়ে গেছে। এটা আমাদের জন্য একটি অশনিসংকেতের মতো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন সংক্রমণ দমাতে না পারলে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আর পারব না। আমরা হাসপাতালে বেড না হয় বাড়ালাম, কিন্তু রোগী আরও বাড়লে লাভ হবে না। প্রতিদিন ৫০০০ লোক আক্রান্ত হলে এবং সবাই হাসপাতালে আসলে, সারা দেশকে হাসপাতালে রূপান্তর করলেও রোগীর জায়গা দিতে পারব না।’
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫২ জন। গত আট মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি গত এক দিনে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। কয়েক মাস করোনার সংক্রমণ কমার পর হঠাৎ করে ফের বাড়ছে সংক্রমণ। এ ছাড়া মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে বারবার বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।
এদিকে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী রাখার জায়গা নেই বলে বুধবার জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঢাকার বাইরে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লায় রোগী যায় না। বেড (শয্যা) পড়ে আছে। ঢাকায় জোরাজুরি না করে কাছের জেলাগুলোতে গিয়ে সেবা নিতে পারেন। সেখানে সব সেবার ব্যবস্থা আছে।’
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নয়, এমন রোগীর সেবাদান কমিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া পরামর্শ দিয়েছেন জাহিদ মালেক। মন্ত্রী বলেন, ‘দুই হাজার নাজাল ক্যানুলা মেশিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া ২ হাজার ৫০০ শয্যাও বাড়ানো হবে।’
বিয়ে, পিকনিক, ঘুরে বেড়ানো বন্ধের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘নিজেরা নিজেদের রক্ষা করেন। পরিবারকে রক্ষা করেন। প্রতিবেশী, আপনজন ও দেশকে রক্ষা করেন। শুধু সেবা দিয়ে কুলানো যাবে না, যদি নিয়ন্ত্রণ না করি।’
বাসাইলসংবাদ/ ০১ এপ্রিল, ২০২১ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




