
নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনায় আক্রান্ত হয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)-এর উপ-কর কমিশনার সুধাংশু কুমার সাহা মৃত্যুবরণ করার পর মৃতদেহ তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসিতে দাহ করতে বাধা প্রদান করে গ্রামবাসী। পরে তার শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রশাসনের সহায়তায় মৃতদেহ দাহ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৯ জুন) বিকেলে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার উপস্থিত থেকে উপজেলার পাড়াগ্রামে শ^শুরবাড়ির পারিবারিক শ্মশানঘাটে সুধাংশু কুমার সাহার মৃতদেহ দাহ করা হয়। তবে তার দাহ কার্যে পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিল না।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার সুধাংশু কুমার সাহার স্ত্রীর বরাদ দিয়ে বুধবার (১০ জুন) সকালে বলেন, ‘কর অঞ্চল-৩ এর উপ-কর কমিশনার সুধাংশু কুমার সাহার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসিতে স্থানীয়রা মৃতদেহ দাহ করতে বাধা দেয়। পরে তার মৃতদেহ শ^শুরবাড়ি ঘাটাইলে দাহ করতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘাটাইলে তার মৃতদেহ আনা হলে সেখানেও স্থানীয় লোকজন বাধা দেয়। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি উপজেলার পাড়াগ্রামে পারিবারিক শ্মশানঘাটে দাহ করা হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন- কিছুদিন আগেও যে ছেলেটাকে নিয়ে এলাকাবাসী গর্ব করত? যার পরিচয় দিতে সবাই(আত্মীয়-স্বজন, ভাই বোন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী) গর্বোবোধ করত? পরক্ষনেই সেই আদরের ছেলেটি চক্ষুশূল হয়ে গেল??
কি তার অপরাধ?? তার অপরাধ একটাই সে বৈশ্বিক মহামারীর শিকার। সে করোনা (COVID-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে!!!
ধিক্কার জানাই এ ঘুনে ধরা সমাজব্যবস্থাকে। যে সমাজ চুর, বাটপার, লুটতরাজ, মুনাফাখোর, ঘুষখোর, নারী পাচারকারী, মাদক পাচারকারী, টেন্ডারবাজ, ধর্ষক, খুনী, দেশদ্রোহীতা কোন কিছুকেই এত ঘৃণার চোখে দেখে না?? যতটা না ঘৃণ্য করোনাভাইরাসে আক্রান্তকারী অথবা আক্রান্তকারীর পরিবার।
বলছিলাম করোনায় আক্রান্ত হয়ে উপ-কর কমিশনার (বিসিএস ট্যাক্স) সুধাংশু সাহা মৃত্যুবরণ করার পর তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে দাহ করতে বাঁধা দেয়ার কথা?? মানবিকতা কোথায় এসে দাড়ালো!! নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে সময়ের শ্রেষ্ঠ মেধাবী কে সম্মান জানাতে পেরে। সুধাংশু সাহারা কোন অপরাধ করেনি, উনি বৈশ্বিক মহামারির শিকার।’
তার আবেগঘন পোস্টে কমেন্ট করে সচেতন মহল ইউএনওকে ধন্যবাদ জানান। অপরদিকে সুধাংশু কুমার সাহার মৃতদেহ তার গ্রামের বাড়িতে দাহ করতে বাঁধা দেওয়ায় সচেতন মহল ইউএনও’র পোস্টে কমেন্ট করে নিন্দা প্রকাশ করেন।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার উপস্থিত থেকে সুধাংশু কুমার সাহার মৃতদেহ দাহ করছেন।
সুধাংশু কুমার সাহার স্ত্রী মানসী দাশ বলেন, সুধাংশু করোনায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসি গ্রামে। মৃত্যুর পর নিজ বাড়িতে সুধাংশু সাহার মৃতদেহ দাহ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করায় গ্রামের লোকজন বিরোধীতা করায় সেখানে দাহ করা সম্ভব হয়নি। পরে আমার বাবার বাড়ি (সুধাংশুর শ্বশুরবাড়িতে) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের পাড়াগ্রামে পারিবারিক শ্মশানঘাটে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় মৃতদেহ দাহ সম্পন্ন হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও আমাদের ৬ বছরের মেয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছি। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বাসা লকডাউন করা হয়েছে। বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না। মৃত্যুকালে আমার স্বামীর কাছে যেতে পারি নাই। তার শেষকৃত্য দেখতে পারি নাই। মেয়েও তার বাবাকে শেষ দেখা দেখতে পেলো না।’ সুধাংশু কুমার সাহা ২৭তম বিসিএসে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
…বাসাইলসংবাদ/ ১০ জুন, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




