
নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামীকাল ১৫ জুন (বুধবার) টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। চেয়ার দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগসহ স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা। তবে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের টেক্কা দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের চেয়ারে বসতে অনেকটাই বেগ পোহাতে হবে দুইটি ইউনিয়নেই।

জানা যায়, আগামীকাল বুধবার বাসাইল সদর ও কাশিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদে বাসাইল সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী সোহানুর রহমান সোহেল নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সদ্য বহিস্কৃত সদর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম সোহেল (আনারস)। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাছেদুল আলম সিদ্দিকী (চশমা) ও হারুন অর রশিদ (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে। এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে লড়ছেন ৬৪জন প্রার্থী।
এদিকে, কাশিল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাজিক (নৌকা)। তার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী রমজান আলী মিয়া (মোটরসাইকেল)। এছাড়াও নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির তোফাজ্জল হোসেন (লাঙল), স্বতন্ত্রপ্রার্থী আলাল উদ্দিন (টেলিফোন), কাইনুল হক (আনারস) ও রাকিবুল ইসলাম (চশমা) প্রতীক নিয়ে। এ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে লড়ছেন ৩৮জন প্রার্থী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নবগঠিত বাসাইল সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও কাশিল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (বিএনপি) প্রার্থী রীতিমতো কাঁপিয়ে তুলছেন নির্বাচনি মাঠ। ফলে অনেকটাই চাপের মুখে আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকার প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের নৌকার প্রার্থীদের দলীয় সমর্থন থাকলেও স্বস্তিতে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার ও কৌশলে। ফলে নৌকার প্রার্থীদের জয় পেতে নামতে হবে প্রাণপণ যুদ্ধে। কেননা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক যতটা মুখ্য ভূমিকা রাখে, তার চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে এলাকা, গোষ্ঠী কিংবা পারিবারিক সম্পর্কের প্রভাব। এ নির্বাচনে দলীয় টানের চেয়ে এলাকার টানই মুখ্য হয়ে উঠছে। এমনই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে কাশিল ইউনিয়নে।
এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মির্জা রাজিক। গতবারের নির্বাচনে তার কাছেই মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান বিএনপি নেতা রমজান আলী মিয়া। এবার আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে নেমেছেন রমজান আলী। মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নৌকা প্রার্থীর সঙ্গে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন তিনি। এবার অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী মির্জা রাজিক।
এদিকে, নবগঠিত বাসাইল সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহেল। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী শরিফুল ইসলাম সোহেল। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মনোনয়ন বঞ্চিতরা নেপথ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় মাঠে কিছুটা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিনি। তবে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এ ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সোহানুর রহমান সোহেলের মুখ্য ভূমিকা থাকায় সাধারণ ভোটাররা তার পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন। এজন্য ভোটের দিক দিয়ে তার অবস্থান আরও শক্ত রয়েছে।
কাশিল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মির্জা রাজিক বলেন, ‘সাধারণ ভোটারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন। ভোটের মাঠে আমার অবস্থান ভালো। আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে সাধ্যমত কাজ করার চেষ্টা করেছি। সামনে আরও নতুন কিছুর ভাবনা রয়েছে।’ জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী রমজান আলী মিয়া বলেন, ‘ভোটের দিক দিয়ে আমার অবস্থা ভালো থাকায় নৌকার প্রার্থীর লোকজন আমার কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে ভোট সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হলে আমি বিজয়ী হবো।’
বাসাইল সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সোহানুর রহমান সোহেল বলেন, ‘মানুষ জন্ম নিবন্ধনসহ দীর্ঘদিন নানা সমস্যায় ছিলেন। তারা কোনও ইউনিয়নের পরিচয় দিতে পারতেন না। আমি সংসদ সদস্য মহোদয়ের সহযোগিতায় অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাসাইল সদর নামে ইউনিয়নটি গঠনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছি। আমি আশা করি, মানুষ আমাকে এটার মূল্যায়ন করবেন।’ জয়ের ব্যাপারে তিনিও শতভাগ আশাবাদী।
বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনি শংকর রায় বলেন, ‘ভোটারদের আতঙ্কের কিছু নেই, নির্বাচন অবাদ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, বাসাইল সদর ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৯৪৩জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৪১০ ও নারী ভোটার ৩হাজার ৫৩৩জন। আর কাশিল ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৩ হাজার ৪৫০জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৫৪০ জন ও নারী ভোটার ১১ হাজার ৯১০জন।
বাসাইলসংবাদ/ ১৪ জুন, ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




