
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া মিয়াবাড়ী এলাকায় নির্মাণ শ্রমিক আব্দুল্লাহ ওরফে আব্দুল মিয়ার (৩৮) দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে খুনীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও শোকসভা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সোনালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ ও শোকসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাসাইল-সখীপুর আসনের এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের। সভায় বক্তব্য রাখেন বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান নাদু।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পলাশ বলেন, ‘শালিসে আব্দুল মিয়াকে পাওনাকৃত ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এনামুল হক লিটনকে ফেরত ও তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এনামুল হক লিটনসহ তার লোকজন সে সিদ্ধান্ত মানেনি। এ সময় এনামুল হক লিটন ও তার পক্ষের লোকজন আব্দুল মিয়াকে শালিসে থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে আহত করে। এ সময় তার ভাই-ভাতিজা এগিয়ে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। আমরা তাদের ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুলকে মৃত ঘোষণা করেন।’
শালিসের সভাপতি ও হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান নাদু বলেন, গ্রাম্য শালিসের সিদ্ধান্ত না মেনে হামলা করবে এটা কল্পনাতীত। কিন্তু সাবেক জিপি আব্দুর রশিদ ও তার ভাই এনামুল হক লিটন এভাবে শালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করবেন তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এনামুল হক লিটনরা নির্মাণ শ্রমিক ও তার ভাই-ভাতিজাদের উপর হামলা করে মারাত্মক অপরাধ করেছে।’ ফেরাতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম জানান, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি ঘটনাটি শুনে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের বলা হয়েছে।’
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন। ইতোমধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিক মাঠে কাজ করছে।’
বাসাইল-সখীপুর আসনের এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের বলেন, ‘শালিসী বৈঠকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হওয়ার পরও পরিকল্পিতভাবে সহজ সরল ও গরীব আব্দুলকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা এলাকা ত্যাগ করেননি। এ হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। হত্যাকারীরা যে দলেরই হোক না কেন ও যতই প্রভাবশালী হোক তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহত আব্দুলের মেয়ের লেখাপড়াসহ যাবতীয় দায়িত্ব আমি নিয়েছি। বিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তার সকল খরচ আমি বহন করবো। তার ছেলের দায়িত্ব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদকে নিতে বলেছি। এছাড়াও তার স্ত্রীর জন্য বিধবাভাতার কার্ডও করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।’

প্রতিবাদ ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় স্থানীয় এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সোনালিয়া মিয়াবাড়ীর আব্দুল মিয়া জমি বিক্রির জন্য স্থানীয় মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে এনামুল হক লিটনের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেন। পরে নির্মাণ শ্রমিক আব্দুল মিয়া জমি না দিয়ে টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা করছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে গত রবিবার বিকেলে স্থানীয় শামছুলের বাড়ির পাশে খোলা জায়গায় গ্রাম্য শালিসের আয়োজন করা হয়।
হাবলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে গ্রাম্য শালিসে স্থানীয় ওয়াজেদ আলী, ছানোয়ার হোসেন, ইউপি সদস্য পলাশ, পানসু মিয়াসহ স্থানীয় মাতব্বররা উপস্থিত ছিলেন। সালিশে আব্দুর রহমান নাদু, মাতব্বর ওয়াজেদ আলী, ছানোয়ার হোসেন ও পলাশ মিয়ার সমন্বয়ে জুড়ি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আব্দুল মিয়াকে পাওনাকৃত ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এনামুল হক লিটনকে ফেরত ও তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের এনামুল হক লিটনের ভাই টাঙ্গাইলের সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বিচারের রায় না মানার ঘোষণা দেন। এ সময় এনামুল হক লিটন ও তাদের পক্ষের লোকজন নির্মাণ শ্রমিক আব্দুল মিয়া ও তার ভাই আনু মিয়া (৩৫), ভাতিজা জাহিদকে (২৪) এলোপাতারী ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নির্মাণ শ্রমিক আব্দুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
…বাসাইলসংবাদ/ ০৯ জুন, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




