
বাসাইল সংবাদ: মঙ্গলবার, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার তমা আক্তারের চিকিৎসায় প্রয়োজন আড়াই লাখ টাকা।
তমার কয়েকটি পরীক্ষার পর চিকিৎসক নিশ্চিত হয়েছেন, তমা ভাসকুলার ম্যালফরমেশন রোগে আক্রান্ত। পরীক্ষার আগে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, তার চিকিৎসায় চার লক্ষাধিক টাকা লাগতে পারে। তবে পরীক্ষার পর দেখা যায় এখন সব মিলিয়ে আড়াই লাখ টাকায় সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারে তমা আক্তার। আগামী ১০ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে তমার চিকিৎসা শুরু করা হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী জানান, গত ২২ মার্চ তমাকে প্রাথমিক পরীক্ষার পর প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তমার এই রোগটি “ভাসকুলার ম্যালফরমেশন” যা রক্তনালী টিউমার হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসায় তমা এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে। তিনি আরো বলেন, বেশির ভাগ সময়েই রোগিরা জন্ম থেকেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে টিউমারটি আকারে বাড়ে। ৯ থেকে ১২ বছরে অনেকের একেবারেই কমে যায়। আর যাদের না কমে তাদের মুখের আকার তমার মতো হয়। দৈহিক বৃদ্ধির সাথে সাথে টিউমারটির আকারে বৃদ্ধি পায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু তমার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন হয়ে যাওয়ায় এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে একটু সময় লাগবে।
ইকবাল মাহমুদ আরো জানান, আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি ধাপে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়। ইনজেকশনের মাধ্যমে তমার টিউমারের আকার কমিয়ে আনা হবে। প্রতিটি ইনজেকশন দেয়ার পর ৩ থেকে ৫ মাস অপেক্ষা করতে হবে। এভাবেই টিউমারের আকার ছোট হয়ে আসার আগ পর্যন্ত চিকিৎসা চলবে। এরপর বাকি অংশ অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে। এ পদ্ধতিতে অপারেশন করলে মুখে দাগ থাকবে না। কিন্তু এখনি যদি অপারেশন করানো হয় তাহলে মুখে বড় ধরণের দাগ থেকে যাবে, তবে এ রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয় বহুল।
এসময় তমার সঙ্গে ছিলেন রাইজিংবিডি ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার আরিফ সাওন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি শাহরিয়ার সিফাত ও বাসাইল সংবাদ ২৪ ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক এনায়েত করিম বিজয়।

তমা টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার জশীহাটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আতাহার আলী ও শারমিন বেগম দম্পতির মেয়ে। সে এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তমা। তমার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে অক্ষম তমার অসহায় বাবা-মা।

তমা কান্না বিজরিত কণ্ঠে বলেন, মাঝে মধ্যে এটা প্রচন্ড ব্যাথা হয়। ঠিকভাবে কথা বলতে কিংবা খেতে পারি না। মুখে এমন মাংসপিণ্ডের বুঝা নিয়ে কোথাও যেতে পারি না। কারোর সাথে মিশতে পারি না। স্বপ্ন ছিলো লেখাপড়া করবো। কিন্তু আমার মুখে এমন অদ্ভুত মাংসপি- আমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে।
এ রোগের কবল থেকে চিকিৎসা করে সুস্থ করার সামর্থও বাবা আতাহার আলীর নেই। তিনি বলেন শুনেছি মানুষের সাহায্য নিয়ে তমার চেয়েও কঠিন রোগে আক্রান্তরা সুস্থ হচ্ছে। এ রোগের অভিশাপ থেকে তমাকে সুস্থ করার জন্য সরকারী- বেসরকারী ও সমাজের বিত্তশালীরা সাহায্যের হাত বাড়াবেন বলে আমার বিশ্বাস।
উল্লেখ্য, অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমের পক্ষ থেকে তমাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন করা হয়। আর তাকে ঢাকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেনের নির্দেশনায় বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সায়মা আক্তার।
তমার বাবা আতাহার আলী জানান, এ পর্যন্ত তাদের বিকাশ নাম্বারে ৪০ হাজার টাকা সহযোগিতা এসেছে। এর মধ্যে তমার পরীক্ষায় (এমআরআই, এমআরএ ও রক্ত পরীক্ষা) ১৩ হাজার টাকা ও তাদের ঢাকায় থাকা, ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যাওয়া সব মিলিয়ে আরো তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
বিত্তশালীদের সহানুভতি ও আর্থিক সহায়তা পারে তমাকে সুস্থ করে তার স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে। তমার চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর ০১৭৪৭-২৪৪৯০৬ অথবা শারমিন আক্তার, একাউন্ট নম্বর ৩৪০২০৩৪৩, অগ্রণী ব্যাংক, আইশরা ব্রাঞ্চ, বাসাইল, টাঙ্গাইল।
বাসাইল সংবাদ/একে
সকলের অবগতির জন্য অনুগ্রহ পূর্বক নিউজটি শেয়ার করুন




