
নিউজ ডেস্ক : আমাদের দেশের বেশিরভাগ পরিবারেই কেউ না কেউ ভুগছেন কোমর ব্যথায়। কোমর ব্যথার কারণ অনেক। উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো–মাংসের দুর্বলতা, স্ট্রেস ইনজুরি, স্ট্রেইন, স্প্রেইন, ওভারলোডেড ব্যাক পেইন মাসল, ডিস্ক প্রবলেম, অ্যাঙ্কাইলাইজিং স্পন্ডাইলাইটিস (স্পন্ডিলোলিসথেসিস), ভিসেরাল প্রবলেম (কিডনি, পিত্তথলির পাথর), স্পাইনাল ডিফরমিটি (স্কোলিওসিস, কাইফোসিস), মাল্টিপল মায়েলোমা, ডিজেনারেশন, ওবেসিটি, পেলভিক ইনফামেটরি ডিজিজ, প্রি মেন্সট্রুয়েল সিন্ড্রম, এন্ডোমেট্রিওসিস, থ্রিয়েটেন্ড অ্যাবরর্জন, মিসক্যারেজ, ইউটেরিন প্রলাপস, অস্টিওপোরোসিস, ইউরেথ্রাইটিস, প্রেগন্যান্সি, কক্সিগোডাইনা, এমআই জয়েন্ট ডিসফাংশন, হরমোনাল ফ্যাক্টর ও মেন্সট্রুয়াল ক্রাম্পস।

চিকিৎসা শুরুর আগে রোগের বিস্তারিত ইতিহাস জানা দরকার। সে অনুযায়ী রোগীর ফিজিক্যাল এক্সামিনেমন করা দরকার। শুধু ব্যথা নয়, ব্যথা, কীভাবে হলো, কোন অবস্থায় ব্যথার উপশম হয়–এটিও রোগীর কাছ থেকে জানা দরকার।
ফিজিক্যাল এক্সামিনেশন অবশ্যই রোগীর ইতিহাস। কিন্তু মেকানিক্যাল ডিসফাংশন অনুযায়ী পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা দরকার। রোগের ব্যাপারে আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীকে বুঝতে হবে। রোগীর ভালোভাবে যত্ন করতে হবে।
চিকিৎসা ও অন্যান্য মোডালিটিসের মাধ্যমে রোগীকে উৎসাহ দিতে হবে যে, সে দ্রুত তার কর্মক্ষেত্রে ফিরে যেতে পারবে। কেননা কোমর ব্যথার রোগী অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকে। এতে কর্মক্ষেত্রে কাজের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি প্রচুর অর্থেরও ক্ষতি হয়।
ব্যাক এডুকেশনের ব্যাপারে রোগীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা, পেপার উপস্থাপন করা ও এডুকেশনাল বুকলেট প্রদান করা জরুরি। প্যাশেন্ট এডুকেশন, রিভিউ অব লিটারেচার ক্রনিক ব্যাক পেইনের জন্য খুবই কার্যকরী এবং এ কাজগুলো রোগীকে তার কাজে ফিরে যেতে সহযোগিতা করে থাকে।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ব্যাক পেইন চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা আপনাকে এবং আপনার মাংস দ্রুত শক্তিশালী করে। দ্রুত কর্মক্ষেত্রে ফিরে যেতে সাহায্য করে, অর্থাৎ আপনার মুভমেন্ট ও অ্যাকটিভিটি বাড়িয়ে দেয়।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মধ্যে স্ট্রেচিং, স্ট্রেন্দ্রেনিং ও পেইন রিলিফ চিকিৎসা অন্যতম। এ ছাড়াও বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ অনেক ভালো। সেক্ষেত্রে আপনার ব্যাক মাসল শক্তিশালী রাখুন বা শক্তিশালী করুন। এমন কাজ করবেন না, যা করলে কষ্ট বেড়ে যায়। সঠিক ভঙ্গি মেনে চলুন। কমপক্ষে আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমাবেন। প্রতিদিন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শে প্রতিদিন এক্সারসাইজ করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। টেনশনমুক্ত থাকুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। প্রতিদিন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাবেন। ধূমপান বর্জন করা উত্তম। সুস্থ থাকার জন্য এটা বর্জন করা খুব জরুরি।
লেখক : প্রফেসর ডা. আলতাফ সরকার
মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজঅর্ডারস বিশেষজ্ঞ
চেম্বার : লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার
৪৪/৮ পশ্চিম পান্থপথ (বিআরবি হাসপাতালের বিপরীতে), ঢাকা। ০১৭৬৫৬৬৮৮৪৬




