
নিজস্ব প্রতিবেদক : ছোটবেলা থেকেই তারা স্বপ্ন দেখতেন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তারা দুজনেই সদ্যসমাপ্ত ৪০তম বিসিএস-এর প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা সংক্ষিপ্ত চাকরি জীবনেও রেখেছেন যোগ্যতার স্বাক্ষর।

এই দুজন কৃতী শিক্ষার্থী হলেন- বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি, ক্ষুদ্র সেচ), টাঙ্গাইল সদরে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী আশিক জামান অয়ন এবং একই পদে মির্জাপুর অঞ্চলে কর্মরত মুনতাসির মাহফুজ রিফাত)।
জানা যায়, আশিক জামান অয়ন ঢাকার মিরপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তার আদি নিবাস যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলায়। তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শওকত উজ্জামান এবং মাতা রেহেনা জামান। দুই ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র বড় বোন মৌসুমী জামান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। আশিক জামান ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্র ছিলেন। ২০০৪ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অর্জন করেন তিনি। এরপর ২০১০ সালে ঢাকা এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি পাস করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পেয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখেন। এরপর ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগ থেকে বিএসসি এবং ২০১৮ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে আশিক জামান অয়ন ২০১৮ সালে বিএডিসিতে যোগদান করেন। তার চাকরির প্রথম কর্মস্থল এই টাঙ্গাইলে। অদ্যবধি এখানেই কর্মরত রয়েছেন। এখানে থাকা অবস্থাতেই তিনি বিসিএস পরীক্ষা দেন।
আশিক জামান জানান, ‘৩৮তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার (আইসিটি) পেলেও যোগদান করেননি। এরই মধ্যে তিনি বিয়ে করেছেন। স্ত্রী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস অধ্যয়নরত। আশিক জামান অয়নের খেলাধুলার প্রতি বিশেষ দূর্বলতা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তার প্রিয় খেলা ফুটবল। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা ও প্রিয় কাব বার্সেলোনা এবং প্রিয় খেলোয়াড় লিওনেল মেসি।’ কৃষি ক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং প্রকৌশলী জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ক্রীড়াসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান আশিক জামান অয়ন।
এদিকে, অপর সুপারিশপ্রাপ্ত মুনতাসির মাহফুজ রিফাত ৪০তম বিসিএসে মেধা তালিকায় ৯ম স্থান অর্জন করেন। তার বাড়ি নীলফামারী সদরে। তিনি ২০০৯ সালে গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১১ সালে নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১৭ সালে বুয়েট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন। চাকরি জীবনে তিনি প্রথমে আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডে এবং পরে ২০২০ সালে বিএডিসিতে যোগদানের শুরু থেকেই তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কর্মরত আছেন। তারা বাবা আব্দুর রশিদ একজন ব্যবসায়ী। মাতা মাহফুজা বানু গৃহিনী এবং ভাই ঢাকায় সফট্ওয়ার কোম্পানীতে চাকরিরত। ব্যক্তি জীবনে রিফাত অবিবাহিত। তুখোর মেধাবী এই প্রকৌশলী ছাত্র জীবনে কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, রচনা লেখনসহ নানামুখী প্রতিযোগীতায় একাধিক পুরস্কার অর্জন করেন। তার স্বপ্ন নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন করা। দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটানো তার একটি মানবীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তিনি পছন্দ করেন কোরআন তেলাওয়াত। এছাড়াও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো। মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, দ্বন্দ্ব, বিবাদ, কলহ তার মনকে ব্যথিত করে। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মুনতাসির মাহফুজ রিফাত বলেন, ‘অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ এখানে এসেছি। এখন সময় এসেছে মানুষের জন্য কাজ করা। আমি যেন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সহযোগিতা করতে পারি। এজন্য সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশী।’
বাসাইলসংবাদ/ ১০ জুন, ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




