
নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ওপর যারা স্যাংশন দেবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরাও স্যাংশন দেব। তবে স্যাংশন দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের তাড়াহুড়ো নেই।’

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা। জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নিষেধাজ্ঞা কাদের ওপর দেওয়া হবে এবং কী প্রেক্ষাপটে দেওয়া হবে-জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, ‘যারা আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারি। পারি না? নিশ্চই পারি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারি। এগুলো সময়মত জানবেন।’
নিষেধাজ্ঞা দিতে কী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে– উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দিতে প্রস্তুতি নেব। এত তাড়াহুড়া কিসের।’
বাংলাদেশেরও ভিসানীতি আছে জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘ভিসা নীতি সব দেশে আছে। আমাদের দেশেও আছে। আমরা সবেইকে ভিসা দেই না। আমরা ব্যক্তি বিশেষ কিংবা কোনো দেশকে কম ভিসা দেই। আমি যেটা বুঝতে পারি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির মূল উদ্দেশ্য, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তারা আমাদের সঙ্গে একমত। তারা আমাদের হাতকে শক্ত করার জন্য ভিসা নীতি চায়।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি, একমাত্র আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে মাঝের সময়ে কিছু সামরিক–বেসামরিক সরকার ছিল, তখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়।’
তলেতলে সবার সঙ্গে আপস হয়ে গেছে-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভিসা নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কী আপস হয়েছে– জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিসা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নাই, মাথাব্যথার কারণ নাই। আমরা কোনো চাপ অনুভব করি না। উনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন, ওনার কাছে জিজ্ঞেস করেন। ভিসানীতি আমাদের জন্য গুরত্বপূর্ণ কিছু নয়। উনি (ওবায়দুল কাদের) ঠিকই বলেছেন। যারা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করে তাদের জন্য হয়তো দুসংবাদ, যদি দুষ্টু লোক হয়। আমেরিকা তো সবাইকে ভিসা দেয় না। কয়েক হাজার লোক বছরে ভিসার জন্য আবেদন করে, এর মধ্যে কত লোককে ভিসা দেয়?’
বিদেশিদের চাওয়া–পাওয়া ও চাপ নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যেহেতু মান–ইজ্জত বেড়েছে ও উন্নয়ন হচ্ছে, ফলে সবাই আমাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে চায়। তাই আমাদের সঙ্গে এসে দেখা করে। আগে এতো মানুষ দেখা করতো না। বিদেশিরা মূলত তাদের পণ্য বিক্রি করতে আসে। এ জন্য চাপ সৃষ্টি করে, যেন তার কাছ থেকে পণ্য কেনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্য বিক্রি করতে চায়, ফ্রান্স তাদের পণ্য বিক্রি করতে চায়, যুক্তরাজ্য তাদের পণ্য বিক্রি করতে চায়, ইউরোপ তাদের পণ্য বিক্রি করতে চায়।’
সূত্র- দৈনিক আমাদের সময়
বাসাইলসংবাদ, ০৪ অক্টোবর, ২০২৩ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




