
বাসাইলসংবাদ: মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : বাঙালির জীবনে নানা কারণে মার্চ মাস অন্তনির্হিতি শক্তির উৎস। এ মাসেই বাংলাদেশের সূর্য উদিত হয়েছিলো। ঐতিহাসিক একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের চতুর্থ দিন আজ। দেশমাতৃকাকে হানাদারমুক্ত করতে দৃপ্ত শপথে বলীয়ান পুরো বাঙালী জাতি। উনিশ শ’ একাত্তরের মার্চের এই দিনে স্বাধিকার চেতনায় শাণিত আন্দোলনমুখর ছিল বাঙালী জাতি।
৭১ এর এই দিনে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। দিনটি ছিল বাঙালির মুক্তি আন্দোলনের লাগাতার হরতালের চতুর্থ দিন। স্বাধিকার আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ভোর ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ঢাকাসহ গোটা প্রদেশে হরতাল পালিত হয় এদিন। গোটা দেশ চলতে থাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে। চারদিকে শুধু একই আওয়াজ, ‘মুজিব তুমি এগিয়ে চলো- আমরা আছি তোমার সাথে; ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ অথবা ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’। সর্বাত্মক এই হরতালে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক শাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ঢাকায় সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নেওয়া হলেও চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুরে তা বলবৎ থাকে। খুলনায় হরতাল পালনকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর সেনাবাহিনীর বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণে ৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়। চট্টগ্রামে এদিনও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে ২ মার্চ ও ৪ মার্চ মিলে মোট ১২০ জন নিহত ও ৩৩৫ জন আহত হয়। সারাদেশে আহতদের সুচিকিৎসার্থে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত-সহস্র মানুষ লাইন দিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও নিহতদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের বেসামরিক দায়িত্বে নিয়োজিত মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী কিছু প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন রাতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে। তাঁর সেই প্রস্তাবের জবাবে বঙ্গবন্ধু বাঙালীরা কিভাবে মারা যাচ্ছে তার বর্ণনা দেন এবং দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর দাবী মেনে নেয়ার কথা বলেন। এমন সময় সেখানে তাজউদ্দীন আহমদ উপস্থিত হয়ে বলেন এখন আর এক ছাদের নিচে আমাদের অবস্থান সম্ভব নয়। এরপর আর সেই আলোচনা এগোয়নি। অন্যদিকে এদিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানা থেকে ইপিআর-এর বাংলাদেশী জওয়ানরা রাজপথে মিছিলকারীদের সঙ্গে একাত্ততা ঘোষণা করে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।
আন্দোলনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা দফায় দফায় বৈঠকে বসেন ৭ মার্চের জনসভা সফল করার জন্য। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে চলতে থাকে জনসভার প্রস্তুতি। পাশাপাশি ঢাকাসহ সারাদেশেই গঠন হতে থাকে সংগ্রাম কমিটি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুব ও ছাত্র নেতারা গোপনে নানা স্থান থেকে অস্ত্র সংগ্রহ অভিযান চালাতে থাকেন বেশ জোরেশোরেই।
শুধু ঢাকায় নয়, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশমাতৃকাকে হায়েনামুক্ত করতে সারাদেশেই বীর বাঙালী ফুঁসে ওঠে। বিশেষ করে প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাজ এলাকার স্বাধীনতাকামী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে।
৭ মার্চ যতই এগিয়ে আসতে শুরু করে, স্বাধীনতাকামী বাঙালী ও পাক সামরিক জান্তার মধ্যে উত্তেজনা ততই বাড়তে থাকে। দেশের মানুষ একবুক প্রত্যাশা নিয়ে বসে থাকে ৭ মার্চ কী ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু।
সূত্র- বাংলার আলো
বাসাইলসংবাদ/একেবি




