
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইলে সিগারেট খাওয়ার জন্য ৩০ টাকা না পেয়ে এক কিশোরকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর ওই কিশোরের অণ্ডকোষ কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ভুক্তভোগী শাহজালাল মিয়া (১৬) নামের ওই কিশোর। আহত শাহজালাল উপজেলার কাউলজানী চরপাড়া (জুম্মন বাড়ী) এলাকার ভ্যানচালক শফি মিয়ার ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর বাড়িতে সরেজমিনে গেলে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়। তারা অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- কাউলজানী চরপাড়া (জুম্মন বাড়ী) এলাকার ছানোয়ার সিকদারের ছেলে রাকিব সিকদার ও বারেক মিয়ার ছেলে তারিকুল মিয়া। এ ঘটনায় বাসাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এশার নামাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কিতাব আলীর দোকানের পেছনে বখাটে রাকিব সিকদার ও তারিকুল মিয়া ভুক্তভোগী শাহজালালের পথরোধ করে। এসময় শাহজালালের কাছে সিগারেট খাওয়ার জন্য ৩০ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় তারা শাহজালালকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার মুখ ও অ-কোষ চেপে ধরে লাথি মেরে পাশের খাদে ফেলে দেয়। এসময় তার কান্নার শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী শাহজালালের অ-কোষে পঁচন দেখা দেয়। দিশকুল না পেয়ে শাহজালালের পরিবার তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখায়। এক পর্যায়ে গত ২৮ মার্চ শহরের আমিনা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শাহজালালের একটি অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী শাহজালাল বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এ পর্যন্ত তার চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। বর্তমানে ধার-দেনা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসহায় শাহজালালের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়রা জানান, শাহজালালের বাবা শফি মিয়া ভ্যানচালক। শফি মিয়ার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা দুজনেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর মতো। অসহায় ছেলেটিকে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি। অভিযুক্ত রাকিব ও তারিকুল বখাটে। তারা দুজনেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। সুুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী শাহজালাল জানায়, ‘আমি মসজিদ থেকে বাড়িতে ফিরতে ছিলাম। এসময় রাকিব ও তারিকুল আমাকে আটকিয়ে ৩০ টাকা চায়। টাকা না দেওয়ায় আমাকে মারধর করে। অ-কোষে চেপে ধরার পর লাথি মেরে আমাকে নিচে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আমার একটি অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়েছে।’
ভুক্তভোগী শাহজালালের বাবা শফি মিয়া বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় শহরের আমিনা ক্লিনিকে অপারেশন করে আমার ছেলের একটি অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয়েছে। অপরটিতেও পঁচন ধরেছে। ছেলের চিকিৎসা বাবদ এ পর্র্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করতে বাড়িতে এসেছিল। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
বাসাইল থানার এসআই রেজাউল করিম বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।’
বাসাইলসংবাদ, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন






