
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্যা বাজারে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সুজন নামের এক নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির আতঙ্কে রয়েছে এসব মানুষ। তার হাত থেকে রক্ষা পেতে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে বাসাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

অভিযুক্ত সুজন মিয়া সুন্যা ঘোনাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে। আওয়ামী লীগের ব্যানারে তার ফেসটুন দেখা গেছে সুন্যা বাজারে।
বণিক সমিতি ও স্থানীয়রা জানান, সুজন দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সুন্যা বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর করে আসছে। এছাড়াও দোকানদারদের বিভিন্ন সময় মারধরও করে। আবার অনেক ব্যক্তিকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস পাচ্ছে না কেউ। সম্প্রতি সুন্যা বাজারের গোলঘরটিও ভাঙচুর করে সুজন। এরপর থেকে বাজারের ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগ নেতাসহ স্থানীয় সচেতন মহল ফুঁসে উঠে। সুজনের হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে, বাজারের পাশেই রয়েছে সুন্যা আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সুন্যা সম্মিলিত আলিম মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের উপরও যেকোনও সময় আক্রমণ করতে পারে বলেও স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন। তারা দ্রæত সুজনকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বণিক সমিতির সভাপতি মো. শালটু মিয়া বলেন, ‘সুজন একজন ভয়ানক লোক। মদ, গাজা, ইয়াবাসহ অনেক কিছুই খেয়ে সুজন নেশা করে। তার যন্ত্রণায় বাজারের ব্যবসায়ীসহ অনেকেই খুব অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। দোকানে বাকি না দিলে গালিগালাজ করা হয়। সম্প্রতি সে বসার গোলঘরটিও ভাঙচুর করেছে। এসময় এক নারী ঝাড়–দারের ঘরও ভাঙচুর করে। সে আমাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, ‘সুজন আমাকেও হত্যার হুমকি দিয়েছে। মানুষ তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করা হবে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ‘সুজন একটি আতঙ্কের নাম। এমন কোনও কাজ নেই যে সে করে না। সমাজের উচ্চ পর্যায়ের মানুষদেরও সে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে আসছে। আমাদের গোলঘরটিও ভাংচুর করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুন্যা আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সুজন একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি। তার যন্ত্রণায় সুন্যার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। যাতে আর কেউ এমন ঘটনা না ঘটাতে পারে সেজন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সুজনের বক্তব্য নিতে খোঁজ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।
বাসাইলসংবাদ/ ১৮ মে, ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




