
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আইয়ুব নবী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শান্তা আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে গোপালপুর থানায় গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরআগে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া সওদাগর পাড়ায় এই আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে অগ্নিদগ্ধ ওই গৃহবধূর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান। চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে ওই গৃহবধূকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠিয়েছেন তিনি। গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা জানতে নিয়মিত খোঁজ রাখছেন তিনি। ওই গৃহবধূ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শান্তা নামের অগ্নিদগ্ধ ওই গৃহবধূর বাড়ি উপজেলার নন্দনপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মোক্তার আলীর মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে একই উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া সওদাগর পাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আইয়ুব নবীর সাথে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকে শান্তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে আর এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের সময় যৌতুক দেয়া হলেও প্রায় ৩ বছর ধরে আইয়ুব শান্তাকে তার বাবার বাড়ি থেকে আরও টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। দরিদ্র ঘরের সন্তান হওয়ায় শান্তা যৌতুক এনে দিতে না পারায় শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। কয়েকদিন আগে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শান্তা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেয় তার বাবার বাড়িতে। পরে গ্রাম্য শালিসে বিষয়টি মীমাংসা করে আর নির্যাতন করবে না জানিয়ে স্ত্রীকে নিজ বাড়ি নিয়ে আসে আইয়ুব। বাড়িতে এনেও যৌতুকের জন্য স্ত্রীর উপর আবারও শুরু করে নির্যাতন। তারই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার আবারও শান্তাকে তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেয়ার জন্য চাপ দেয় আইয়ুব। তাতে রাজি না হওয়ায় শান্তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় পাষন্ড স্বামী আইয়ুব। পরে শান্তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় আইয়ুব। পরে আগুন নিভিয়ে প্রতিবেশীরা তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী বলেন, ‘আগুনে শান্তার দুই হাত, গলা, পেটসহ বুকের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছে।’
মামলার বাদী শান্তার ভাই আব্দুল লতিফ বলেন, ‘সামর্থ না থাকায় চিকিৎসার ব্যায়ের কথা চিন্তা করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে থানার ওসি স্যার সেটি জানার পর শান্তার চিকিৎসার সব ব্যায়ভার নিয়ে আবার শান্তাকে বুধবার রাতেই ঢাকা পাঠিয়েছেন। পরে থানায় মামলাও দায়ের করেছি। ওসি স্যার চিকিৎসার জন্য টাকা দিয়েছেন। পরে আরও প্রয়োজন হলে সেটাও তিনি দিবেন বলে জানিয়েছেন।’
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বলেন, ‘ওই গৃহবধূর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই করুন। যেই কারনে আশঙ্কাজনক হওয়ার পরও শান্তাকে হাসপাতালে নিচ্ছিলো না। পরে সেটি জানার পর আমি তার ভাইয়ের কাছে চিকিৎসার জন্য যাবতীয় খরচ দিয়ে ঢাকা পাঠিয়েছি। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আগের চেয়ে তার অবস্থা ভালোর দিকে বলে ডাক্তারের বরাত দিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আইয়ুব পলাতক রয়েছে। যেহেতু এখন করোনার প্রকোপ চলছে, এ জন্য সবাই ঘরবন্দি থাকছে। তাই তাকে কুঁজে পাওয়াও কষ্টকর। তারপরও তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
…বাসাইলসংবাদ/ ২৪ এপ্রিল, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




