
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার হাতিলা রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- আজগর আলী (৩২) ও তার স্ত্রী সারামণি (২৫), তাদের আড়াই বছর বয়সী ছেলে আব্দুর রহমান আইয়ান। এঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের পাঁচ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ নামের আরও এক ছেলে। তারা জেলার বাসাইল উপজেলার ময়থা উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সম্প্রতি তারা সদর উপজেলার করটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ‘আজগর আলী তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে হাতিলা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে তারা হাতিলা রেলক্রসিং পাড় হচ্ছিল। এসময় একটি ট্রেন এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এঘটনায় সারামণি ও তার ছোট ছেলে আব্দুর রহমান আইয়ান ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর আহত হন আজগর আলী ও তার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ। আহত অবস্থায় আজগর আলী ও আব্দুল্লাহকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজগর আলীকে ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাতে আজগর আলীরও মৃত্যু হয়। আর তাদের বড় ছেলে আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের বড় ছেলে আব্দুল্লাহসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তারা। এই হাতিলা রেলক্রসিং ছাড়াও জেলার বিভিন্নস্থানে রেলক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান। ফলে বিভিন্ন সময় ট্রেনে কাটা পড়ে অনেকেই মারা যাচ্ছেন।
নিহতদের স্বজন আশরাফ আলী বলেন, ‘আজগর আলী তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে একটি ট্রেন এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলেই আজগর আলীর স্ত্রী ও ছোট ছেলে মারা যায়। এরপর ঢাকায় নেওয়ার পথে আজগর আলীও মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে আজ তাদের মৃত্যু হলো। রেলক্রসিংয়ে আজ যদি কোনও গেটম্যান থাকতো তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না। ওই রেলক্রসিংয়ে মাঝে মধ্যেই লোকজন মারা যাচ্ছে। তারপরও কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা স্টেশন মাষ্টার সোহেল খান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। শুনেছি ওই ট্রেনে কাটা পড়ে তিনজন মারা গেছে। লাশ তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন।’
বাসাইলসংবাদ/ ২৩ অক্টোবর, ২০২১ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




