
নিউজ ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ৩৭ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশের কপি হাতে পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এই টাকা দিতে বলা হয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে। এই টাকা নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসক এসব টাকা বিতরণ করবেন।

একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিব, গণপূর্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, ডিপিডিসি, ডেসকো, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, এসপিসহ ১৩ জন বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে দায়ের করা এক রিটের শুনানি নিয়ে আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল নূর উস সাদিক।
এর আগে গত ৮ আগস্ট ওই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও দগ্ধদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার। আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে আদালত উপরোক্ত আদেশ দেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সে সময় মসজিদে থাকা অর্ধশতাধিক মানুষের সবাই কমবেশি দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৮ জন। চিকিৎসাধীন দগ্ধ ৯ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
বাসাইলসংবাদ/ ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




