
নিউজ ডেস্ক : মেয়র পদে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে উত্তরে আসাদুজ্জামান রিপন ও তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছ থেকে এই ফরম সংগ্রহ করেন তারা।
আসাদুজ্জামান রিপন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তাবিথ আউয়াল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলে। ২০১৫ সালে উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
এদিকে ইশরাক মহানগর বিএনপির সদস্য। দলের সদ্য প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকার মেয়র সাকে হোসেন খোকার বড় ছেলে।
মেয়র ও কাউন্সিলর পদের মনোনয়ন পত্রের সংগ্রহ মূল্য ১০ হাজার টাকা। বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ২৮ ডিসেম্বর গুলশান কার্যালয়ে বিকেলে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায়ই মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।
ঢাকা বিভক্তির পর ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল দুই সিটিতে একযোগে নির্বাচন হয়। নির্দলীয় সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে উত্তরে আনিসুল হক এবং দক্ষিণে সাঈদ খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন।
উপনির্বাচনের আগে আইন সংশোধন হওয়ায় সেই নির্বাচনটি হয় দলীয় প্রতীকে। আগামী ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর এই দুই সিটিতে নির্বাচন হবে।
দলীয় প্রতীকের মেয়র নির্বাচন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে।
প্রার্থীরা যা বলেন
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে দক্ষিণের প্রার্থী ইশরাক সাংবাকিদের বলেন, ‘আমার যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি, এটা বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আজকে জনগণের অধিকার জনগণের কাছে নেই্, জনগণের সরকার নেই। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটের অধিকার ফিরে পাবার জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্ত করার জন্য এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি থাকবে যে, তাদের যে সাংবিধানিক অধিকার দেওয়া হয়েছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের করার উনারা যাতে সেই পবিত্র দায়িত্বটা পালন করেন।’
জয়ের বিষয়ে কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী যদি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আমরা ধানের শীষের প্রার্থী যারা আছি তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’
উত্তরের প্রার্থী আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘এই নির্বাচন থেকে প্রত্যাশা করার কিছু নাই। দেশে অনেক আগে থেকে ভোট নির্বাসিত হয়ে গেছে, দেশে গণতন্ত্র নেই, ভোট নেই, সুষ্ঠুভাবে কোনো নির্বাচনও হয়নি। এর পরে আমার পার্টি গণতন্ত্র রক্ষার নামে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না এই নির্বাচনের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা হবে, গণতন্ত্র উদ্ধার হবে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, এই নির্বাচনে হারলে আকাশ ভেঙে পড়বে না। আসলে আকাশ ভেঙে পড়বে তাদের (সরকার) মাথায় সেজন্য সিটি নির্বাচন কোনো ভাবে নিরপেক্ষ হোক-এটা তারা চাইবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্টি ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে জনগণকে সংগঠিত করার জন্য এবং আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালো জিয়ার মুক্তিকে তরান্বিত করার জন্য আমি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। কারণ একটি স্পেস আমরা ব্যবহার করতে চাই। কারণ এখন তো জনসভা করা যায় না, পথসভা করা যায় না, পেকেটিং করা যায়, কিছুই করা যায় না। অন্ততপক্ষে নির্বাচনে যদি প্রার্থী হই ধানের শীষের ভোট দানের আহ্বানের সাথে সাথে নেত্রীর মুক্তিরা দাবিটা উচ্চারিত হবে। সেই লক্ষ্য থেকে আমি এই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। শুধুমাত্র আমাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিটি তুলে ধরার জন্য।’
উত্তরের অপর প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য জনগণের সকল অধিকার রক্ষা করার জন্য আমরা প্রতিদিন প্রস্তত থাকি। সেই প্রস্তুতি অংশ হিসেবে, আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছি। আমি আশা করি, এবার একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আমরা পাব। যদি আমরা সেই সুযোগ পাই আশা করি আমরা জয়লাভ তো করবই এবং তখন আসলে জনগণের কল্যাণে আমরা কাজ করার সুযোগ পাব।’
উত্তরের জনগণ কেন ভোট দেবে জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, ‘ঢাকাবাসী আমাকে, ধানের শীষকে, বিএনপিকে ভোট দেবে কারণ যে বর্তমান পরিস্থিতি এটা শুধু ঢাকাবাসী নয়, সারা বিশ্ববাসী দেখছে। আমরা একটা দূষণের শহরে পরিণত হয়েছি, নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সবচেয়ে নিম্নস্থানে আছি, বাসযোগ্য শহরের ব্যাপারে আমরা সবচেয়ে নিম্ন স্থানে আছি। আমারে শহরের সাথে তুলনা হচ্ছে যেসব দেশে যুদ্ধ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি নিজের শুধু যোগ্য প্রার্থী খালি ভাবছি না, জনগণের প্রার্থীও ভাবছ। কারণ ২০১৫ সালের নির্বাচনে আপনারা পরিস্কারভাবে দেখেছেন জনগণের ব্যাপক সাড়ার আমার প্রতি এসেছিল। কিন্তু ওই নির্বাচনটা বানচাল করে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর ৩০ তারিখে পুরো দেশের জনগণ চেষ্টা করেছিল ধানের শীষের ওপর আস্থা রাখতে এবং ভোটটা দিতে। সেটাও ২৯ তারিখে ভোট ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। তাই আমি শুধু আশাবাদী নই, দেশবাসী এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটাররা যদি চান্স পায় আমাকেই ভোট দেবে।’
…বাসাইলসংবাদ/২৬ডিসেম্বর/একেবি




