
বাসাইলসংবাদ: বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৯:

নিউজ ডেস্ক : বরগুনায় রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন ডিভাইস ও ফেসবুক পেজের নমুনা পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) আদালতের অনুমতি নিয়ে এসব আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
তবে ঢাকায় পাঠানো আলামতের মধ্যে নয়ন বন্ড ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির কোনও ডিভাইস আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাদের ব্যবহৃত ডিভাইস পাঠানো হয়েছে কিনা তা পরীক্ষার আলামত তালিকায় উল্লেখ নেই।
বরগুনা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার করা মালামাল ও আলামতের মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তিনটি মোবাইল ফোন, একটি পেনড্রাইভ, ১০টি ফেসবুক আইডি ও ০০৭ গ্রুপ থেকে ডাউনলোড করা তথ্য, একটি ই-মেইল আইডি এবং ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের ২৬টি স্ক্রিনশর্ট ও প্রোফাইলের ছবি পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো ফেসবুক আইডিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আরিয়ান শ্রাবণ, কামরুল হাসান সাইমুম, রাব্বি আকন (কারাগারে), রেজওয়ান খান (টিকটক হৃদয়, কারাগারে) এবং রিফাত ফরাজী (কারাগারে)। পেনড্রাইভে ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের ২৬টি স্ক্রিনশর্ট ছাড়াও পুলিশের উদ্ধার করা একটি ‘ক্লোজ’ ফেসবুক গ্রুপের তথ্যও রয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির আলামত ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নয়নের বাড়ি থেকে অন্তত ২০ ধরনের আলামত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের বেশকিছু ছবি, মিন্নির ব্যবহার করা লিপস্টিক, চিরুনি, চিরুনিতে আটকে থাকা মিন্নির চুল, কামিজ, চুলের ক্লিপ, ফেসপাউডার, চোখের ভ্রূতে ব্যবহৃত আই ব্রো, সিমকার্ড এবং কয়েকটি মোবাইল ফোনসেট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা ও বিয়ে প্রমাণ করতেই এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে। নয়নের বাড়ির চিরুনিতে আটকে থাকা মিন্নির চুল ও তার ব্যবহৃত কয়েকটি জিনিস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গত, বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যায় মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




