
বাসাইলসংবাদ: বৃহস্পতিবার, ০৩ জানুয়ারি, ২০১৯:

বাসাইলসংবাদ ডেস্ক:
৩০ ডিসেম্বর শেষে হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন পেয়ে আবারো ক্ষমতায় আসছে আওয়ামী লীগ সরকার। গত দশম বছরে তাদের সরকারের সাফল্য এগিয়েছে দেশ। দেশে-বিদেশে ছড়িয়েছে সুনাম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার অর্থনীতি, অবকাঠামো, কূটনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের উল্লেখযাগ্য অগ্রগতি অর্জনের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ করেছে। কিছু ভুল-ত্রুটি থাকা সত্তেও সাফল্যের পাল্লা ভারী হওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিকল্প না খুঁজে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছেন।
জনগণের কল্যাণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাফল্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা মার্কার প্রতি দেশবাসী আবারও আস্থা রেখেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দল হিসেবেও আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করেছে এই নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে তাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই জাতি উদযাপন করবে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী। ২০২১ সালে বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতার বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী। এছাড়া বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীও ২০২০ সালে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আজ বাংলাদেশ স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। একই সঙ্গে জাতি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্ব দরবারে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।
দলীয় সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্ব ও সাফল্য বর্তমান সরকারের বিগত গত বছরে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সময়ে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত মিয়ানমারের কয়েক লাখ নির্যাতিত অসহায় রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা মানবতা ও শান্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এজন্য আন্তর্জাতিক মহল তাকে ‘মাদার অফ হিউমিনিটি’ অভিধায় ভূষিত করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব সম্বলিত যে ভাষণ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তা ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।
বর্তমান সরকারের আমলে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৩২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং রফতানির পরিমাণ ৩৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১০ ডলার। দারিদ্র্য হার ৫৭ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ। মানুষের গড় আয়ুও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর।
বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্য পূরণের সুবাদে দেশের ১৬২ মিলিয়ন জনসংখ্যা একটি ডিজিটালাইজড জ্ঞানভিত্তিক সমাজে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই মেয়াদে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূীচর (এডিপি) আকার ও ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দেশের সক্ষমতা বেড়েছে।
দেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা মিটিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। দেশের টেলিকম খাতেও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০১৭ সালে নভেম্বরে দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ১০৬ মিলিয়ন। এসময় মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ১৬৬ মিলিয়ন। দেশের ৮৩ শতাংশের বেশি লোক এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার মেগাওয়াটে। জেন্ডার সক্ষমতায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। ২০১৬-তে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম।
আলোচিত পদ্মা সেতু, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রো রেল, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মাসেতু রেল লিংক এবং দোহাজারি-কক্সবাজার-গুনদুম রেল লাইনের মতো মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগকে আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন করেছে বলেই দলটির বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প পদ্মাসেতু প্রকল্প। দেশের বৃহত্তম এই অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ বর্তমানে দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত ৪ জানুয়ারি ফেনী জেলার মহিপালে এই ফ্লাইওভার উদ্বোধনও করেন।
দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক’ প্রধানমন্ত্রী ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেছেন। মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) সুমিতোমোর নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
এই সকল কাজগুলো সম্পন্ন হলে বাংলাদের অর্থনীতির চাকা আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের মানুষও চায় তাদের উন্নয়ন। তাই অসম্পন্ন কাজ গুলো সম্পন্ন করতে আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারকে। আর এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ হবে রোল মডেল।
সূত্র-বাংলার আমরা
বাসাইলসংবাদ/একে




