
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল জেলা পরিষদে ১১ নং ওয়ার্ডে (বাসাইল) সদস্য পদে নির্বাচনে ভোট কিনেও হেরে গেলেন রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। নির্বাচনে ভোট না দেওয়া জনপ্রতিনিধিদের তালিকার আগেই টাকা ফেরতেরর দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটার্স দিয়ে টাকা ফেরতের আহবান জানান। পরে তিনি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে স্ট্যাটার্সটি সরিয়ে নেন। রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম বাসাইল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম ফেসবুক স্ট্যাটার্সে লিখেছেন- ‘জেলা পরিষদ নির্বাচন (বাসাইল) সদস্য -১১ আমরা প্রার্থী চারজন ছিলাম। ভোটার ছিল ৯৪ জন। দিন শেষে জানা গেল- প্রত্যেক প্রার্থী ৫০ থেকে ৬০জন ভোটারকে টাকা দিছে। তারমধ্যে আমাকে ৬০ জন ভোটার কথা দিলেও এর মধ্যে কম বেশি ৫৫ জন ভোটার আমার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলো। ভোট দিল মাত্র সাত জনে। এই হলো ভোটারদের আসল চরিত্র। পৃথিবীর সব কিছুই এক বার দেখলে চেনা যায় শুধু মানুষ বাদে। আমাকে যারা ভোট দেননি মনে হয় আপনাদের নামের তালিকা হওয়ার আগে আমার টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। আপনারা না জনপ্রতিনিধ! ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেন, এটা আপনাদের অধিকার, তাই বলে টাকা নিবেন চার জনের কাছ থেকে ভোট দিবেন এক জনকে এটা কেমন চরিত্র আপনাদের? আপনাদের কাছ থেকে আপনার এলাকার জনগণ কি সেবা পেতে পারে।’
একটি সূত্রে জানা গেছে, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাকার ছড়াছড়ি ছিল। অনেক ভোটার একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করেন। টাকা নেওয়ার বিষয়টি এখন সর্বমহলে শোনা যাচ্ছে।
রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রত্যেক প্রার্থীই ৫০ জন থেকে ৬০জন ভোটারকে টাকা দিয়ে কিনেছে। একজন ভোটারকে সর্বনিম্ন ২০ হাজার করে দিতে হয়েছে। আবার অনেক ভোটারকেই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আমাকেও কিনতে হয়েছে টাকা দিয়ে ভোট। হয়ত সম্পর্কের কারণে আমার কম টাকা লেগেছে। তবে সর্বনিম্ন ২০ হাজারের নিচে কেউ টাকা নেয়নি। একজন ভোটার আমার সামনে খাম খুলে টাকা গুনে নিয়েছে। টাকা কম থাকায় সে আরও ৫ হাজার টাকা চেয়ে নিয়েছে। একজন ভোটার চারবার বিক্রি হয়েছে। এমন হলে নির্বাচন কিভাবে করবো। তবে ভবিষ্যতে আর কোন নির্বাচনে দাঁড়াবো না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভোটার বলেন, ‘প্রায় প্রত্যেক ভোটারই টাকা নিয়েছে। আমিও নিয়েছি একজনের কাছ থেকে। এছাড়াও আরও দুইজন আমাকে জোর করে টাকা দিয়েছে। নির্বাচনে হেরে এখন টাকা ফেরত চাচ্ছে।’
বাসাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহেল বলেন, ‘ভোটারদের টাকা দেওয়ার বিষয়টি এখন প্রার্থীরাই বলছেন, শুনতেছি। এক প্রার্থী টাকা ফেরত চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটার্স দিয়েছিল। পরে তিনি সেটি ডিলেট করে দিয়েছেন।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনি শংকর রায় বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কেউ টাকা দেলদেনের বিষয়ে অভিযোগ করেনি। এখন নির্বাচনে হেরে তিনি গুজব ছড়াচ্ছেন। ভোটারদের টাকা দিয়ে থাকলে তিনি এটা অন্যায় করেছেন।’
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলে জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নং ওয়ার্ডে (বাসাইল) সদস্য পদে সোমবার (১৭ অক্টোবর) বাসাইল উপজেলা হলরুমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাছির খান টিউবওয়েল প্রতীকে ৫৫ ভোট পেয়ে সদস্য পদে নির্বাচিত হন। আর উটপাখী প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম ৭ ভোট পান। এ নির্বাচনে সদস্য পদে মোট পাঁচজন ও সংরক্ষিত ৪ নং ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বাসাইলসংবাদ, ১৮ অক্টোবর ২০২২ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




