
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর গ্রেফতারকৃত আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোর্শেদের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। অপর দিকে সোমবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে তিন দিনের রিমান্ড শেষে মোর্শেদকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর আসামীরা হচ্ছে, টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মৃত আব্দুল মোমেনের ছেলে মুন্সী তারেক পটন (৪৯), মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে পারভেজ খান রনি (৩৬), সোহেল ওরফে বাবু (২৭), দুলাল সূত্রধরের ছেলে অন্তর সূত্রধর (২৭), কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সুমা (৪৫), মুন্সী তারেক পটনের স্ত্রী লিনা (৪০), শামীম আল মামুনের ছেলে রাফসান (২৮), মৃত আজিজ মিয়ার ছেলে আয়নাল মিয়া (৪৫)।
আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বলেন, টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতের বিচারক শামসুল আলম প্রদিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলর মোর্শেদের বাসার সামনে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকে ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে পিংকিকে মোর্শেদের লোকজন অপহরণ করে। পরে ১৭ নং ওয়ার্ডের কাজী মোস্তফার মাধ্যমে মোর্শেদ ও সৈয়দ আমেনা পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর জোর করে কাজী মোস্তফার বালাম বই থেকে মোর্শেদ তাদের কাবিন নামা ছিড়ে ফেলে দেয়। তাদের সংসারে ছয় বছরের এক মেয়েও রয়েছে। দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারের মাঝে মধ্যেই ঝগড়া লেগে থাকত। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে মুন্সী তারেক পটনের বাসায় দাওয়াতের কথা বলে পিংকিকে নিয়ে যায় মোর্শেদ। সেখানেই অভিযুক্ত আসামীরা পিংকিকে হত্যা করে লাশ গুম করে। এতোদিন কাউন্সিলর মোর্শেদের ভয়ে মামলা করতে সাহস পায়নি নিহতের পরিবার।
মামলার বাদী সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বলেন, আমার মেয়ে পিংকিকে মোর্শেদ জোড় করে অপরহরণ করে বিয়ে করে। এরপর মোর্শেদসহ তার বাহিনীর লোকজন আমার মেয়েকে হত্যা করে। মোর্শেদসহ তার ক্যাডার বাহিনীর ফাঁসি দাবি করছি।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদকে গত ১৯ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। পরে তার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসায় তল্লাশী চালিয়ে দুইটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গ্রেফারকৃত মোর্শেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সোমবার (২৩ আগস্ট) তিন দিনের রিমান্ড শেষে মোর্শেদকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। রিমান্ডে মোর্শেদ জিজ্ঞাসাবাদে তার ওই অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়।
বাসাইলসংবাদ/ ২৪ আগস্ট, ২০২১ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




