
মো. জোবায়ের হোসেন : কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে মাস খানেক আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এসে আটকা পড়েছেন বেশ কিছু শ্রমিক। পথে ঘাটে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। সন্ধ্যার পর থেকে এরকম প্রায় ৩০-৪০ জনের একটি দলকে দেখা যায় মির্জাপুর বাইপাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে রাত যাপন করছেন তারা।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার ( ১৬ এপ্রিল) আটকেপড়া এমন কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা হলে তাদের মানবেতর জীবনের বর্ণনা দেন তারা। পাবনা থেকে আসা শ্রমিক খলিল মিয়া বলেন, ‘কিছু টাকার আশায় কাজ করতে আইছিলাম। কিন্তু আইসা আটকা পইড়া গেছি। কাজও পাইনা, বাড়িও যাইতে পারছিনা। চিড়া খেয়ে দিন পাড় করতাছি।’
রংপুর থেকে আসা শ্রমিক মজিবর বলেন, ‘কাজতো নাই হঠাৎ যদি কোন কাজ পাই তাও তারা টাকা বাড়িয়ে দিতে চাইলেও খাবার দিতে চায় না।’
টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে আসা শ্রমিক মোতালেব মিয়া বলেন, আমার বাড়ি কাছেই। কিন্তু রাস্তায় গাড়ি চলে না তাই বাড়ি যাইতে পারতাছি না। কাজ থাকলেও করোনার ভয়ে কেউ কাজের জন্য ডাকে না।’
মির্জাপুরে আটকে পড়া এমন কৃষি শ্রমিকদের মানবেতর জীবন যাপনের খবর পেয়ে রাতের বেলা রান্না করা খাবার প্যাকেট নিয়ে হাজির হচ্ছেন অনেক তরুণ এর মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় এমপি একাব্বর হোসেনের পুত্র ছাত্রলীগ নেতা তাহরীম সীমান্ত, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মীর সাব্বির, ছাত্রলীগ কর্মী খান ওয়ালিউর রহমান আকাশ প্রমুখ।
এমন বিপদগ্রস্থ মানুষদের মাঝে রান্না করা খাবার তুলে দেওয়া তরুণছাত্রলীগ কর্মী খান ওয়ালিউর রহমান আকাশ বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে চাঁদা তুলে শুধুমাত্র রাতের খাবার তৈরি করে তাদের দিচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমরা কতদিন তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবো জানি না। তাদের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হলে ভাল হতো বলে মন্তব্য করেন এই তরুণ ছাত্রলীগ কর্মী।
আটকেপড়া কৃষি শ্রমিকদের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, ‘মির্জাপুরে আটকেপড়া কৃষি শ্রমিকদের একত্রিত করে এক জায়গায় নিয়ে আসার কথা ভাবছি এবং সেখানে তাদেরকে সরকারি খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে যেন থাকা খাওয়ায় সমস্যা না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’
…বাসাইলসংবাদ/ ১৬ এপ্রিল, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




