
নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের করটিয়ায় খান কমিউনিটি সেন্টার এন্ড গেষ্ট হাউজে দুই ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে করটিয়া সা’দত বাজারে অবস্থিত এ গেষ্ট হাউজে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগি একজনের নাম সাদ্দাম হোসেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার তিতপুর গ্রামের ফজল হকের ছেলে। তিনি প্রাইভেটকার চালক। অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমি প্রাইভেটকার চালক হিসেবে ঢাকায় চাকরি করি। গত বৃহস্পতিবার নাজমুন নাহার ম্যাডাম করটিয়ায় তার এক আত্মীয় বাসায় গাড়ি নিয়ে বেড়াতে আসেন। পরে আমাকে খান কমিউনিটি সেন্টার এন্ড গেষ্ট হাউজে থাকতে দেন। সেখানে দুই রাত ভালোভাবেই কেটেছে কিন্তু শনিবার সকালে এক ব্যক্তি এসে আমাকে একটি রুমে ডেকে নিয়ে যান। পরে আরও দুইজন ব্যক্তি এসে আমার মুখে কস্টটেপ ও রঁশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এসময় ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে আমাকে একটি টয়লেটে আটকে রেখে তারা চলে যায়। এসময় আরও
একজনকে জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। একপর্যায়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর এক ব্যক্তি এসে আমাকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, ‘এঘটনায় গেষ্ট হাউজের কেউ জড়িত থাকতে পারে। শুনেছি তাদের সিসি ক্যামেরাও বন্ধ ছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনও কর্ণপাত করেনি। তারা বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। এজন্য আমি পুলিশকে অবহিত করিনি।
নাজমুন নাহার বলেন, সাদ্দাম আমার
ব্যক্তিগত প্রাইভেকটার চালক। সাদ্দাম ওই গেষ্ট হাউজে রাত্রীযাপনের জন্য ছিল। আর আমি আত্মীয়র বাসায় ছিলাম। পরে শনিবার সকালে সাদ্দামকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। একপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওই গেষ্ট হাউজে সাদ্দামকে হাত-পা বেঁধে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একটি গেষ্ট হাউজে এমন ঘটনা ঘটলে মানুষের নিরাপত্তা কোথায় এমন প্রশ্ন তার।খান কমিউনিটি সেন্টার এন্ড গেষ্ট হাউজের ম্যানেজার সম্রাট বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তখন আকাশ দায়িত্বে ছিল। গেষ্ট হাউজের মালিক হামিদুর রহমান খান পাশাপাশি কাপড়ের ব্যবসাও করেন। এজন্য ম্যানেজার আকাশ ভোরে কাপড় নিয়ে বের হন। এরপর সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা দুইটি রুমে দুইজনকে হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এসময় তারা সিসি ক্যামেরাটি বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়েছে কিনা সেটা মালিক জানে।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনি খোঁজ নিচ্ছি।’
বাসাইলসংবাদ/ ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




