
নিউজ ডেস্ক : ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের বালেশ্বরের দক্ষিণ এবং ধামরার উত্তরাঞ্চল দিয়ে বুধবার সকালের দিকে আঘাত হানে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। বাংলাদেশে সরাসরি হানা না দিলেও ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকার ব্যাপক অংশ। ঝড়ো হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে অনেক বাড়িঘর। কোনো কোনো নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কয়েক ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে ও জোয়ারের পানি বেড়ে উপকূলীয় নয়টি জেলার ২৭ উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
পূর্ণিমার কারণে রাতেও জোয়ারের পানি বৃদ্ধির শঙ্কা প্রকাশ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। উঁচু জোয়ারের কারণে প্লাবিত হতে পারে আরও অনেক এলাকা। তাই ঘূর্ণিঝড় সাগর ছেড়ে ডাঙায় উঠলেও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, ‘ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়াসহ জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে। আজকে (বুধবার) রাত পর্যন্ত একই অবস্থা অব্যাহত থাকবে। প্লাবিত এলাকায় জোয়ারের পানি আরও একটু বাড়তে পারে। ফলে প্লাবিত হতে পারে নতুন কিছু এলাকা। বৃহস্পতিবার থেকে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকবে।’
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস তা-ব চালাতে চালাতে ভারতের উপকূল অতিক্রম করে। পরে সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে গিয়ে আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। এক সময় নিম্নচাপে রূপ নিয়ে মৃত্যু হয় হতাশার এ ঘূর্ণিঝড়। তবে এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া বইছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্ভাবাসে জানায়, ইয়াসের প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলা এবং তার আশপাশের দ্বীপ ও চরগুলোতে দমকা হাওয়াসহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এসব এলাকার ওপর দিয়ে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে বইছে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ার।
সচিবালয়ে গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২৭টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, শরণখোলা, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, মঠবাড়ীয়া, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, ভোলা সদর, হাতিয়া, রামগতি ও কমলনগর।
ডা. মো. এনামুর বলেন, ‘যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকদের অনকূলে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া আছে। এ ছাড়া আজ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় নয় জেলার ২৭টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দিতে ১৬ হজার ৫০০ শুকনা ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের বরাবর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ইয়াসের কারণে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিশেষ করে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সেন্ট মার্টিনের একমাত্র পর্যটক জেটিটি। উঁচু জোয়ারের প্রভাবে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ডুবে গেছে। জলোচ্ছ্বাসে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বাগেরহাটের মোংলার প্রায় সাড়ে ৮০০ পরিবার। সুন্দরবনসংলগ্ন নদীগুলোতে জোয়ারের পানি পাঁচ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত বছর এমন সময়ে উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আম্পানের চেয়েও ইয়াসের প্রভাবে সুন্দরবনে এক থেকে দেড় ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবল জোয়ারে শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের জেলেখালি ও নাপিতখালিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা দিয়ে তা বন্ধের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।
চট্টগ্রাম : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাগর উত্তাল। বৃদ্ধি পেয়েছে জোয়ারের উচ্চতাও। জোয়ারের পানিতে নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুদিন ধরে দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকার দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, ইয়াসের প্রভাবে সমুদ্রে জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৬ ফুট বেশি।
বরিশাল : ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানির চাপে বরিশাল বিভাগের ৩ জেলার ১২টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইসব পয়েন্ট থেকে পানি ঢুকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায় তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা সরেজমিন কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন পাউবো দক্ষিণাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার। এদিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় নদ-নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারে বসতবাড়ির আশপাশ পানিতে প্লাবিত হওয়ায় খেলতে গিয়ে শিশু দুটির মৃত্যু হয়। তারা হলো- নিয়ামতি ইউনিয়নের ঢালমারা গ্রামের হাফিজুর রহমানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ও গারুরিয়া ইউনিয়নের রুনসি-পশুরী গ্রামের আজগর আলীর মেয়ে আজওয়া আক্তার (৩)।
খুলনা : জেলার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা উপকূলে বাঁধ ভেঙে ও জোয়ারের পানিতে প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লবণপানি প্রবেশ করায় লোকালয়, ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের হুমকির মুখে পড়েছে। কয়রায় পাউবোর বেডিবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে মাছের ঘের, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতশত পরিবার। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহারাজপুর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে ভেঙে যাওয়া বেরিবাঁধ দ্রুত সময়ের মধ্যে আটকানো হবে। এবং যেসব এলাকায় অভার ফ্লো হয়ে জোয়ারের পানি ভেতরে প্রবেশ করেছে সেগুলো মেরামত করা হবে।’ এদিকে ডুমুরিয়ায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে জোয়ারের পানি। এতে চরাঞ্চল ও নদীর তীর রক্ষাবাঁধগুলো রয়েছে হুমকির মুখে। উপজেলার নিম্নাঞ্চল নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
বাউফল (পটুয়াখালী) : নদ-নদীতে পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে পুকুরসহ খামারিদের ঘেরের মাছ। ডুবে গেছে সবজির খামার। নিম্নাঞ্চলের টিউবঅয়েল ডুবে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
শরণখোলা (বাগেরহাট) : ইয়াসের প্রভাবে সাগরসহ উপকুলীয় নদ-নদীতে ব্যাপক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনও প্লাবিত হয়েছে। ফলে বলেশ্বর নদীর জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে একটি মৃত হরিণ।
কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) : বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে গতকাল বুধবার ৮-১০ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে পড়ে উপজেলা পরিষদের অফিস পাড়া, আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ২০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সদরের বিভিন্ন রাস্তা ঘাট ৩-৪ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত হয়।
বরগুনা : উপকূলীয় জেলা বরগুনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দমকা হাওয়াসহ জলোচ্ছ্বাসে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘেরসহ রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জলোচ্ছ্বাসের মধ্য জ্বাল নিয়ে মাছ ধরতে গেলে বামনার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডৌয়াতলা গ্রামের নান্না জমাদ্দার (৩৫) এবং বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ কালিবাড়ী গ্রামে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় স্রোতে ভেসে ইমামুল (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার : জেলার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ৫৫টি গ্রাম, ভেসে গেছে ক্ষেতের লবণ ও ঘেরের চিংড়ি। তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক ও দুই শতাধিক চিংড়ি প্রকল্প। উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ৪৫টি স্থানে ভেঙে গেছে, লোকালয়ে প্রবেশ করছে লবণাক্ত পানি। বিশেষ করে কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সেন্টমার্টিন দ্বীপের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ জানান, জোয়ারের তা-বে দ্বীপের জেটিঘাট বিধ্বস্ত হয়েছে। মহেশখালীর মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, পৌরসভার ও কুতুবজোম ইউয়িনে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত দুইশত কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে শতাধিক চিংড়ি প্রকল্প। বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ১৫ কি.মি. উপকূলীয় বেডিবাঁধ।
পটুয়াখালী : পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৩২ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বেড়িবাঁধের বাইরে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ভেসে গেছে ২ হাজার ৬৩২টি পুকুর ও ৫৯০টি মাছের ঘের। পানিবন্দি কলাপাড়া উপজলার ১৬টি ও রাঙ্গাবালী উপজলার ১৬টি গ্রামের মানুষের ঘরে মঙ্গলবার থেকে উনুন জ্বলেনি। না খেয়ে রাত কাটিয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
বাগেরহাট : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পৌর সদরসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পৌর সদরের শহর রক্ষাবাঁধ উপচে ও উপজেলার বহরবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা রাস্তা বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, মৎস্য ঘের ও নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। খাউলিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে জোয়ারের পানিতে ডুবে জিনিয়া আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মোংলায় বুধবার দুপুরের জোয়ারে পশুর নদীর পাড়ের কানাইনগর, চিলা, কলাতলা, সুন্দরতলা ও জয়মনির বাড়ি, ঘর, পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে।
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাঝের চড়ের সাড়ে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জোয়ারের তোড়ে সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। ক্ষেতাচিড়া, কচুবাড়িয়া, বড়মাছুয়া, খেজুরবাড়িয়া, ভোলমারা, তুষখালী, ছোট মাছুয়া, জানখালী, বেতমোর, উলুবাড়িয়াসহ অন্তত চার ইউনিয়ন রক্ষা বেড়ি বাঁধ উপচে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) : কচা ও বলেশ^র নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে ইন্দুরকানীর ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ভোলা : ভোলায় ১৫ স্পটে প্রায় দুই কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া মনপুরা উপজেলায় ভেঙে গেছে আরও ২০ মিটার বাঁধ। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত এসব বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ করছে পাউবো। এ ছাড়া অন্য কোথায়ও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। লালমোহনে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে গাছ চাপায় এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড চর ছকিনা গ্রামে আবু তাহের (৪৮) নামে ওই শ্রমিক নিহত হন।
নোয়াখালী : জেলার হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে অন্তত ১৩টি গ্রামে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দ্বীপটির হাজার হাজার বাসিন্দা। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ ও জমির ফসল। বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ভাঙা বেড়িবাঁধের পাশে থাকা বাসিন্দারা।
ফেনী : সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়ায় বাহিরের চরে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ছোট ফেনী নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। পিরোজপুর : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মঠবাড়িয়া, ভা-ারিয়া, ইন্দুরকানী, কাউখালী উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বুধবার।
সূত্র- দৈনিক আমাদের সময়
বাসাইলসংবাদ/ ২৭ মে, ২০২১ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




