
নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ১১ ডিসেম্বর। এইদিনে টাঙ্গাইল শহর সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। মুক্তির আনন্দে ওইদিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে টাঙ্গাইল। ৫০ বছর আগে এই দিনটি টাঙ্গাইলবাসীর জন্য এনেছিল বিজয়ের বার্তা। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকবাহিনীর আত্মসমর্পন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়েছিল টাঙ্গাইল।

এর আগে সারারাত মুক্তিযোদ্ধাদের সারাশি আক্রমণ আর প্রচণ্ড গোলাগুলিতে বিনিদ্র রাত কাটায় শহর ও শহরতলির লোকজন। অবশেষে সেই কাঙ্খিত দিন ও মুহূর্তটি আসে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং মুক্তির আনন্দকে স্মরণীয় করে তুলে। যুদ্ধকালীন সময় টাঙ্গাইলের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতাপূর্ণ কাহিনী দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ‘কাদেরিয়া বাহিনীর’ বীরত্বের কথা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।
এপ্রিল থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় কাদেরিয়া বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে পাকসেনাদের পর্যুদস্ত করে। এ যুদ্ধে ৩শ’ দেশপ্রেমিক ও অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে টাঙ্গাইল অঞ্চলের প্রধান কাদের সিদ্দিকী সখীপুরের মহানন্দা ও কীর্ত্তনখোলায় গড়ে তুলের দুর্ভেদ্য দূর্গ। এরপর আক্রমণের মুখে পাকসেনারা গুটিয়ে জেলার অন্যান্য স্থান থেকে এসে যখন টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান নেয় তখন উত্তর ও দক্ষিণ টাঙ্গাইল ছিল সম্পূর্ণ মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। মিত্র বাহিনীর সঙ্গে পাকসেনাদের পুংলি নামক স্থানে সংঘর্ষ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণ ভয়ে পাকসেনারা টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারদিক থেকে সারাশি আক্রমণ চালিয়ে পাক সেনাদের টাঙ্গাইল থেকে বিতারিত করতে সক্ষম হয় কাদেরিয়া বাহিনী। ১০ ডিসেম্বর রাতে টাঙ্গাইল প্রবেশ করেন কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক ভোলা। ১১ ডিসেম্বর সকালে কমান্ডার বায়োজিদ ও খন্দকার আনোয়ার টাঙ্গাইল পৌঁছান। এরপর আসেন বিগ্রেডিয়ার ফজলুর রহমান। পরে সার্কিট হাউসে অবস্থানরত পাক সেনাদের কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পনের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয় টাঙ্গাইল। স্বাধীনতার পর থেকে এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে টাঙ্গাইলবাসী।
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অন্বেষণ এবং মুজিব জন্মশতবার্ষিকী ও মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী স্মরণীয় করে রাখতে টাঙ্গাইল পৌরসভা ১১ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচদিন ব্যাপী হানাদারমুক্ত দিবস উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। প্রথম দিনের মতো অন্য দিনগুলোতেও জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতি ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রতিদিন আলোচনা সভা এবং প্রখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণে সঙ্গীতানুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বাসাইলসংবাদ/ ১১ ডিসেম্বর, ২০২১ / একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




