
বাসাইল সংবাদ: বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৬:

বাসাইল সংবাদ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের সখীপুরে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় মেয়ের জামাইয়ের হাতে শ্বাশুরী জহুরা বেগম (৫০)কে খুনের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নলুয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামে। জানা যায়, বাসাইল উপজেলার বাংড়া জোরবাড়ি গ্রামের মেহের আলীর একমাত্র মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে সখীপুর উপজেলার নলুয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে হাসান সজীব রাজিবের সাথে প্রায় ৮ মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর মাস যেতে না যেতেই রাজিবের পরিবার বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে মরিয়মকে মারধর করতো। ২২ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলে মরিয়মের বাবা মেহের আলী ও মা জহুরা বেগম নলুয়া মেয়ের শ্বশুরবাড়ী যায়। ওইদিন বিকেলেও যৌতুকের দাবিতে মরিয়মকে মারধর করে। এসময়ও শ্বাশুরী জহুরা বেগমের সাথেও মেয়ের জামাইয়ের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তালা দিয়ে আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহতের স্বামী মেহের আলী জানান, একমাত্র মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে প্রায় ৮ মাস আগে সখীপুর উপজেলার নলুয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে হাসান সজীব রাজিবের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় । বিয়ের সময় তিন ভরি স্বর্ণ দেয়ার কথা ছিলো। নগদে দুই ভরি স্বর্ণ দেয়া হয়। এরপর থেকেই বাকি এক ভরি স্বর্ণ দাবি শুরু করে স্বামীর পক্ষ। তারপর থেকে সিএনজি চালিত অটো রিক্সা ও বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন দফায় দুই লাখ টাকা দাবি করে রাজিবসহ তার পরিবারের লোকজন। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় বিয়ের পরই মরিয়মকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। বার বার মরিয়মকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি যায় বাবা মেহের আলী। কিন্তু তাড়িয়ে দেয়া হয় প্রতিবারই। সর্বশেষ ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে মরিয়মের বাবা মেহের আলী ও মা জহুরা বেগম মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যান। যৌতুকের টাকা না দেয়ায় তাদেরকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখতে হাতে তালা নিয়ে রাজিবসহ বাড়ির অন্যরা তাদের উপর চড়াও হয় । একপর্যায়ে রাজীবের তালার আঘাতে মরিয়মের মা জহুরা গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় জহুরা বেগমকে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেমাতুজ জহুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সকালে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সখীপুর থানার। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। লাশ ময়না তদন্ত শেষে বোঝা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বুধবার বিকেলে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সায়মা আক্তার, উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রাশেদা সুলতানা রুবি, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন।
বাসাইল সংবাদ/একে




