
বাসাইলসংবাদ: রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মনোনয়ন না দেওয়ায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার ও গোপালগঞ্জের সেলিমুজ্জামান সেলিমের কয়েক হাজার সমর্থক শনিবার বিকালে এই হামলা চালিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা ওই কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।
শুধু কি মনোনয়ন না পেয়েই নেতা-কর্মীদের এই হামলা, ক্ষোভ, নেতাদের অবরুদ্ধ করা? নেতাকর্মীদের ওপর দলের জ্যোষ্ঠ নেতাদের অন্যায়, দুর্নীতি, দীর্ঘ ক্ষোভ এবং হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছিল গতকালের ঘটনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি মনোনয়ন বাণিজ্যে রেকর্ড গড়েছে। শুরুতেই দল থেকে সাত ‘শ’ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয়া হয়েছিল মোটা অংকের অর্থ। দল পরিচালনা, নির্বাচনী ব্যয়, মামলা খরচ বাবদ দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মোটা অংকের টাকা দিয়েও যারা মনোনয়ন পায়নি, তারাই ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। রক্তাক্ত করা হয়েছে গাড়ির ড্রাইভার হেলালকে।
বিএনপির সময়ে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি মূলত কোকোর স্ত্রীর নিষেধাজ্ঞার কারণে। এহছানুল হক মিলনের এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, মনোনয়ন পাওয়া মোশাররফ হোসেনকে এলাকায় কেউ চিনেন না। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। কোকোর স্ত্রীর সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক থাকায় তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিএনপির এই মনোনয়ন বাণিজ্যে তৃণমূল বিএনপি চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। মনোনয়ন বঞ্চিত অনেক নেতা তাদের টাকা ফেরত চেয়েছেন। তাদের ভাষ্যে, ‘মনোনয়ন যেহেতু পেলাম না সেহেতু আমাদের টাকা আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হোক।’
বাসাইলসংবাদ/একে




