
নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা মহামারীর এই সংকটকালে টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের ঘরে ঘরে কিছুটা হলেও ঈদ আনন্দ উপভোগ করার লক্ষে ঈদ উপহার নিয়ে হাজির হচ্ছেন বাসাইল পৌর মেয়রপত্নী সুলতানা রাজিয়া। নিজের টাকায় পৌর এলাকার চার শতাধিক পরিবারকে তিনি ঈদ সামগ্রী উপহার দেয়ার উদ্দ্যোগ নিয়েছেন।

জানা যায়, সুলতানা রাজিয়ার ইউরোপ প্রবাসী ছেলে-মেয়ের দেয়া ঈদ কেনাকাটার টাকা, নিজস্ব মার্কেটের কয়েকটি দোকান ভাড়া, এবং ব্যত্তিগত সঞ্চয় একত্র করেন তিনি। স্বামী মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদের কাছে এসব টাকা দিয়ে করোনার এই সংকটকালে পৌরবাসীর জন্য কিছু করার ইচ্ছা পোষন করেন। পৌরবাসীদের জন্য কিছু করার এই ইচ্ছাকে উৎসাহিত করতে মেয়র নিজের মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা ও ঈদ বোনাস, মার্চ ও এপ্রিলের পৌর সভার সম্মানী ভাতা এবং ব্যক্তিগত বিশেষ সহযোগীদের দেয়া টাকা স্ত্রী সুলতানা রাজিয়ার তহবিলে দিয়ে দেন। সুলতানা রাজিয়া নিজ পরিবার ও পাড়ার কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক যুবকদের সাথে নিয়ে পৌর এলাকা ঘুরে ঘুরে তৈরী করেছেন মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তের তালিকা। এসব তালিকানুযায়ী ওইসব ঘরে পৌছে যাচ্ছে ‘ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি’ লেখা সম্বলিত একটি প্যাকেট।
যাতে রয়েছে ১ কেজি কালিজিরা চাউল, ১ কেজি আটা, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, ১ প্যাকেট সেমাই, ১টি গুড়া দুধের প্যাকেট, ১টি সাবান।
মেয়রপত্নী সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘এই মহামারীর মধ্যে নিম্ন এবং মধ্য আয়ের মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তিনবেলার ডালভাত যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় ঈদ আনন্দ যেন তাদের কাছে মাটি না হয়ে যায় সে জন্য আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করে ৪শতাধিক পরিবারের হাতে একটি করে প্যাকেট তুলে দিয়েছি। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নিজ চোখে দেখেছি মানুষ কতটা কষ্টে সময় কাটাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি টাকা সংগ্রহ করে ঈদের পরও এভাবে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবো।’
পৌর মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ বলেন, ‘আমার স্ত্রী তার নিজস্ব তহবিল থেকে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। একজন অরাজনৈতিক গৃহবধূর এমন উদ্দ্যোগকে উৎসাহিত করতেই আমি তার তহবিলে কিছু টাকা দিয়েছি। আমার বিশ^াস আমার স্ত্রীকে দেখে সমাজের সামর্থবানরাও এগিয়ে আসবে।’
…বাসাইলসংবাদ/ ২১মে, ২০২০ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন




