
এম জাকির হোসেন : টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপি নেতা আশরাফ পাহেলীকে দেখতে চান তৃণমূলের বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ। স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে আশরাফ পাহেলী টাঙ্গাইলবাসীর কাছে একটি পরিচিত ও আস্থাভাজন নাম হিসেতে খ্যাতি পেয়েছেন।

রাজনীতিক জীবনে তিনি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, ‘মানুষ গড়লেই সমাজ বদলায়, দেশ বদলায়।’ এই দর্শনকে সামনে রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে যুক্ত রয়েছেন।
বিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানকারী সম্ভ্রাম্ভ মুসলিম পরিবারের সন্তান তিনি। তিনি জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে ত্যাগ ও আদর্শের জন্য পরিচিত রাজনৈতিক পথচলায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব মানে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা। অবহেলিত জনগোষ্ঠী, অসহায় মানুষ ও তরুণ সমাজের পাশে দাঁড়ানোই আশরাফ পাহেলী রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
হাট-বাজার, চায়ের দোকান, সামাজিক অনুষ্ঠান ও সভাসমাবেশে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একটাই দাবি উঠে এসেছেÑ আশরাফ পাহেলীকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হোক।
তৃণমূল কর্মীদের দাবি, সুসময়ে বহু অতিথি নেতার বিএনপির রাজনীতিতে দেখা গেলেও দুঃসময়ে তাদের দেখা যায়নি। বিগত সময়ে বিএনপির যে কোনো দলীয় কর্মসূচি আসলে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ব্যাপকভাবে টাঙ্গাইলের রাজপথ থেকে শুরু করে ঢাকার রাজপথে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন বিএনপির ত্যাগী নেতা আশরাফ পাহেলী। বার বার কারাবরণসহ নির্যাতনের শিকার হন তিনি। অনেক মামলার আসামী হয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এবং যুগ পেরিয়েও নেতা-কর্মীদের নিয়ে আদালতের বারান্দায় সময় কেটেছে তার।
বিগত ১৭টি বছর আওয়ামী শাসন আমলে পরিবারসহ বার বার কারা নির্যাতন, হামলা-মামলার শিকার হয়েও রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি এই নেতা। দলের দুঃসময় শক্ত হাতে হাল ধরে টাঙ্গাইল জেলার রাজনৈতিক সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল ও সুসংগঠিত রাখেন এই ত্যাগী নেতা।
২৪-এর জুলাই-আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দক্ষ নেতৃত্ব প্রদানকারী ও বিগত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচ্ছন্নভাবে পরিচালনা করেন। রাষ্ট্র সংস্কারে তারেক রহমানের দেয়া ৩১ দফার সুফল তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে ফুটিয়ে তুলেছেন এই নেতা।
সাবেক যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এই দলের জন্য নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সকল ধরনের সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে রাজপথ থেকে শুরু করে গ্রামীণ মেঠোপথে দলটির সাংগঠনিক প্রচার প্রচারনার মধ্য দিয়েই নিজের জীবনের অর্ধেকটা কাটিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ও বর্তমান বিএনপির নেতা আশরাফ পাহেলী। মামলা, হামলা ও ষড়যন্ত্র কিছুই যেনো রুখতে পারেনি জনসাধারণের ভালোবাসার শীর্ষের জননেতা আশরাফ পাহেলীকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কঠোর পরিশ্রম, সুস্পষ্টবাদী, সততা, নিষ্ঠার কারনেই জায়গা করে নিয়েছে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপির হৃদয়ে। এ বিষয়ে সরকারি বা দলীয় পর্যায়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জনমত, স্থানীয় প্রতিক্রিয়া এবং দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপরই তার সম্ভাবনা নির্ভর করবে।’
আশরাফ পাহেলী জানান, ‘রাজনীতি মানে মানুষের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া। সততা, সাহস ও ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের সেবা করাই তার অঙ্গীকার। তিনি মনে করেন, জনগণের সমর্থন ও দোয়াই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই তিনি টাঙ্গাইলের মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে প্রস্তুত।’ জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বাসাইলসংবাদ, ০৪ মার্চ, ২০২৬ /একেবি
সকলের অবগতির জন্য নিউজটি শেয়ার করুন






