
বাসাইলসংবাদ: রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯

॥ জোবায়ের হোসেন ॥
লাল রং করা পুরাতন একটি বাই সাইকেল। পরনের পোশাকও লাল, সামনে পিছনে কিছু সচেতনতামূলক উক্তি। সাইকেলের সামনে উড়ছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এভাবেই বাল্য বিবাহ সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতে, বাল্য বিবাহ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ নিয়ে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত সাইকেল চালিয়ে ছুটে চলেছেন বগুড়া সদর উপজেলার বারাকপুর গ্রামের মৃত আব্দুর বারেক তালুকদারের ছেলে ৫২ বছর বয়সী আনোয়ার তালুকদার। ঘুরতে ঘুরতে তিনি রবিবার (১০ মার্চ) এসেছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে।
মির্জাপুর পৌছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক-এর সাথে দেখা করে তার নির্দেশনা অনুযায়ী মির্জাপুর এসকে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে সেখানে দুর্যোগ প্রশমন নিয়ে একটি মহড়া চলমান থাকায় উক্ত স্কুুলে লিফলেট বিলি না করে রওনা দেন অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খুঁজে।
আনোয়ার তালুকদার জানান, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি দেশের ৬৪ জেলাসহ ১৬৩টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাল্য বিয়ের কুফল ও ঝুঁকি সংবলিত লিফলেট বিতরণ করেছেন। নিজ এলাকাতেও তিনি তৎপর থাকেন সর্বদা। কোথাও বাল্য বিবাহ হলে প্রশাসনের সহায়তায় তা রোধ করেন তিনি। শীতকালে বছরের ৩ মাস দেশের বিভিন্নস্থানে এই প্রচারনার কাজ করে থাকেন তিনি।

বাল্যবিবাহ নিয়ে তার এই উদ্যোগের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেক আগে আমার দুই ভাস্তির ( ভাইয়ের মেয়ে) বাল্যবিবাহ হয়। তাদের ঘরে একটি করে সন্তানও আছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের দুজনের কারও সংসারই টিকেনি। বর্তমানে তারা দুজন ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে জীবিকা চালাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তাদের জীবনের এই বিপর্যয় আমাকে নাড়া দেয় সবসময়। ওদের যদি বাল্য বিয়ে না হতো ওরা যদি লেখাপাড়া করতো তাহলে হয়তো ওদের জীবনের এই পরিণতি হতো না।”
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে সমাজের যার যার অবস্থান থেকে একটু চেষ্টা করলেই একদিন অবশ্যই বাংলাদেশ বাল্যবিবাহ মুক্ত হবে।
বাসাইলসংবাদ/একেবি




