
বাসাইলসংবাদ: রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮:

বাসাইলসংবাদ ডেস্ক :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগের কাছে পাত্তাই পাবে না বিএনপি। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তুলনায় চট্টগ্রাম বিএনপির প্রতিটি প্রার্থী দুর্বল এবং তাদের জনসমর্থন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তুলনায় একেবারে নগণ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চট্টগ্রাম জেলায় নির্বাচনী আসন ১৬টি। এই জেলায় মোট ভোটার ৫৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩৩। এর মধ্যে নারী ভোটার ২৭ লাখ ২৫ হাজার ১৯৯। পুরুষ ভোটার ২৯ লাখ ১১ হাজার ২৩৪। এই জেলার অতীত নির্বাচনের ফলাফল ও সামগ্রিক ঘটনা প্রবাহ পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতামত হলো, এখানে নৌকা ১১টি, ধানের শীষ ৪টি এবং ছাতা ১টি আসন পাবে।
চট্টগ্রাম-১
চট্টগ্রাম-১ আসনে নৌকার প্রার্থী মোশাররফ হোসেন। আর বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন। এই আসনে মোশাররফ হোসেন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী। তার বিপরীতে নুরুল আমিন অনেকটাই দুর্বল। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই আসনে নৌকা বিপুল ভোটে জয়ী হবে।
চট্টগ্রাম-২
এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আজমাউল্লাহ বাহার। এই আসনের নির্বাচনী এলাকায় নজিবুল বশরের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাছাড়া মহাজোটের প্রার্থী হওয়ায় তিনি আওয়ামী এবং ইসলামপন্থী দুই পক্ষেরই ভোটই পাবেন। এ কারণে পর্যবেক্ষকরা ভাবছেন, এই আসনেও নৌকা জিতবে।
চট্টগ্রাম-৩
চট্টগ্রাম-৩ এ নৌকার প্রার্থী মাহফুজুর রহমান। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কামাল পাশা। এই আসনের ভোটারদের কাছে কামাল পাশার গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও তা মাহফুজুর রহমানের চেয়ে কম। বিগত পাঁচ বছরে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে এই আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম-৪
এই আসনে আওয়ামী লীগের দিদারুল আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইসহাক চৌধুরী। ধানের শীষের এ এলাকায় জয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। কারণ দিদারুল আলম সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। এলাকায় পারিবারিকভাবেই তারা প্রভাবশালী। নেতা কর্মীদেরও সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে এই এলাকায় বিএনপির মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। যা ভোটযুদ্ধে তাদের পিছিয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-৫
এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম। এখানে লাঙল জিতবে বলে পর্যবেক্ষকরা ভাবছেন। কারণ, জনসমর্থন ও প্রভাব- সবদিক থেকেই তিনি এগিয়ে আছেন। আর লাঙল বর্তমানে মহাজোটের অংশ হওয়ায়, এ আসনটিও আওয়ামী লীগের পক্ষে যাবে।
চট্টগ্রাম-৬
চট্টগ্রাম-৬ এ নৌকার প্রার্থী ফজলে করিম চৌধুরী। আর ধানের শীষের হয়ে লড়ছেন জসীম উদ্দীন শিকদার। ফজলে করিম চৌধুরী প্রভাবশালী নেতা। এই আসনের বর্তমান সাংসদ তিনি। এলাকায় তিনি ব্যাপক কাজ করেছেন। এ কারণে ফজলে করিমকেই সম্ভাব্য বিজয়ী মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
চট্টগ্রাম-৭
চট্টগ্রামের এই আসনে নৌকার প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুল আলম। এখানে হাছান মাহমুদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। কারণ, এই এলাকায় তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাকে হারিয়ে দেওয়ার মতো যথেষ্ট জনসমর্থন নেই নুরুল আলমের।
চট্টগ্রাম-৮
এই আসনের মূল দুই প্রার্থী জাসদ (আম্বিয়া’র) মইন উদ্দীন খান বাদল আর বিএনপির আবু সুফিয়ান। এখানেও নৌকার জোয়ার বইছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এ এলাকায় তিনি সব চেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী। এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ করছেন তিনি। অন্যদিকে আবু সুফিয়ান কিছুটা নিষ্প্রভ। তার জনপ্রিয়তাও পড়তির দিকে।
চট্টগ্রাম-৯
এই আসনে নৌকার প্রার্থী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র চট্টলবীর মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছেলে। এলাকায় পারিবারিকভাবেই তারা প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয়। বিপরীতে ধানের শীষের শাহাদাত হোসেন অনেকটাই দুর্বল। এ কারণে এখানে নৌকার জয় হবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।
চট্টগ্রাম-১০
চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আফসারুল আমিন। অন্যদিকে ধানের শীষের সৈনিক ক্লিন ইমেজের নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান। আবদুল্লাহ আল নোমান ওয়ান ইলেভেনের পর থেকেই নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে গেছেন। এ কারণে তিনি এলাকাবাসীর ব্যাপক সহানুভূতি পাচ্ছেন। এখানে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছে। জয় পেতে তারা বদ্ধপরিকর। সব কিছু মিলিয়ে এখানে ধানের শীষকেই এগিয়ে রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
চট্টগ্রাম-১১
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যদিকে নৌকার হয়ে লড়ছেন এম এ লতিফ। আমির খসরুর একসময় জনপ্রিয়তা থাকলেও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতায় উস্কানি প্রদানসহ নানাবিধ অপকর্মের কারণে তিনি জনতার বিরাগভাজন হয়েছেন। অন্যদিকে এম এ লতিফ সাংসদ হওয়ার পর থেকেই এলাকায় বেশ কিছু জনবান্ধব কাজ করেছেন। কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডে জড়িত লতিফ। এজন্য এই আসনে নৌকার জয় হবে বলে ভাবছেন পর্যবেক্ষকরা।
চট্টগ্রাম-১২
চট্টগ্রাম ১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী। আর বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী এনামুল হক। এখানে সামশুল হক চৌধুরীর প্রভাব ও জনপ্রিয়তা ব্যাপক। বিপরীতে বিএনপি অনেকটাই দুর্বল। এ কারণে এখানে নৌকাকে এগিয়ে রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
চট্টগ্রাম-১৩
এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সারোয়ার জামাল। সাইফুজ্জামান চৌধুরী এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ করছেন। তিনি এই এলাকার বর্তমান সাংসদ। এলাকায় তিনি অনেক কাজ করেছেন। গত পাঁচ বছরে তার শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এ কারণে এখানেও পর্যবেক্ষকরা নৌকার জয় দেখছেন।
চট্টগ্রাম-১৪
এখানে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির অলি আহমেদ। অলি আহমেদ ছাতা প্রতীকে লড়ছেন। তিনি প্রবীণ রাজনীতিক। এলাকায় তিনি দারুণ জনপ্রিয়। এ কারণে এই আসনে ছাতা জিতবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।
চট্টগ্রাম-১৫
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নৌকার প্রার্থী নেজামুদ্দিন নদভী। তার বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী শামসুল ইসলাম। এই আসনটি জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ কারণে এখানে ধানের শীষ জয়ী হবে বলে পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন।
চট্টগ্রাম-১৬
এই আসনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির জাফরুল ইসলাম। এই এলাকায় নৌকার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে এখানে ধানের শীষ জিতবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র- বাংলানিউজ পোস্ট
বাসাইলসংবাদ/একে




